Maruti Victoris CNG : ৫০,০০০ টাকা বেতন হলেও কিনতে পারবেন মারুতি ভিক্টোরিস, মাসে কত কিস্তি পড়বে জানেন, রইল পুরো হিসেব
Maruti Victoris Buying Tips : মাসে ৫০০০০ টাকা বেতন হলেই আপনার পক্ষে কেনা সম্ভব এই প্রিমিয়াম কার। জেনে নিন, সেই ক্ষেত্রে কত টাকা মাসে মাসে EMI দিতে হবে আপনাকে।

Maruti Victoris Buying Tips : মিড সাইজ SUV দেখে হকচকিয়ে যাওয়ার কিছু নেই। আপনি চাইলেও কিনতে পারেন মারুতি ভিক্টোরিস সিএনজি (Maruti Victoris CNG)। মাসে ৫০০০০ টাকা বেতন হলেই আপনার পক্ষে কেনা সম্ভব এই প্রিমিয়াম কার। জেনে নিন, সেই ক্ষেত্রে কত টাকা মাসে মাসে EMI দিতে হবে আপনাকে।
কেন মারুতির এই গাড়ি সবার পছন্দের
যদি আপনি এমন কোনও গাড়ি চান, যা আপনাকে মিড সাইজ SUV-র অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পেট্রোলের থেকে কম রানিং কস্ট দেবে, তাহলে Maruti Victoris CNG হতে পারে সেরা পছন্দ। যে ক্রেতারা বড় SUV নিলেও ভাল মাইলেজ চান, তাদের জন্য কোম্পানি নিয়ে এসেছে এই গাড়ি। এই ক্ষেত্রে আপনি ২ লাখ টাকার মধ্য়ে ডাউন পেমেন্ট দিয়েও কম EMI-তে কিনতে পারেন গাড়ি। আগে জেনে নিন গাড়ির দাম কত পড়বে। এখানে দেওয়া রইল লোনে গাড়ি কেনার পুরো হিসেব।
কত অনরোড প্রাইস পড়বে গাড়ির
মারুতি ভিক্টোরিস CNG-র LXI সংস্করণের এক্স শোরুম প্রাইস রাখা হয়েছে ১১.৫৪ লাখ টাকা। এই এক্স শোরুম প্রাইসের সঙ্গে পরে যোগ হবে RTO, ইনস্যুওরেন্স ছাড়াও আরও চার্জ। দিল্লিতে আপনি যদি এই গাড়ি কেনেন, তাহলে আপনাকে এর সঙ্গে যোগ হবে TCS ছাড়াও আরও চার্জ। সবশেষে আপনার কগাড়ির অনরোড প্রাইস দাঁড়াবে ১৩.৪২ লাখ টাকা।
২ লাখ টাকার ডাউনপেমেন্ট দিলে কত টাকার ঋণ পাবেন ?
আপনি যদি এই গাড়ি ফিন্যান্সে নিতে চান, তাহলে প্রাথিমকভাবে ২ লাখ টাকা ডাউনপেমেন্ট করতে হবে আপনাকে। বাকি টাকা আপনি ব্যাঙ্ক থেকে লোন পেয়ে যাবেন. এক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক প্রায় ১১.২৬ লক্ষ টাকা ঋণ দেবে আপনাকে। এখানে ঋণের হিসাবটি গাড়ির 'এক্স-শোরুম' মূল্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।যদি আপনি বার্ষিক ৯শতাংশ সুদের হারে ব্যাঙ্ক থেকে ১১.২৬ লক্ষ টাকার গাড়ি ঋণ নেন, তবে ৭ বছর মেয়াদে মাসিক ইএমআই (EMI)-এর পরিমাণ হবে প্রায় ১৮,১২৩ টাকা। এর অর্থ হল, গ্রাহককে আগামী ৭ বছর ধরে প্রতি মাসে ব্যাঙ্ককে প্রায় ১৮,০০০ টাকা করে শোধ করতে হবে।
এই ইএমআই সাত বছর বা ৮৪ মাস ধরে পরিশোধ করতে হবে। তবে, ব্যাংকের সুদের হার, প্রসেসিং ফি এবং ঋণের চূড়ান্ত শর্তাবলির ওপর ভিত্তি করে ইএমআই-এর পরিমাণে সামান্য তারতম্য হতে পারে। তাই গাড়ি কেনার আগে বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণের প্রস্তাবনাগুলি তুলনা করে দেখে নেওয়া ভালো।
৭ বছরের ঋণে গাড়ির দাম কিন্তু ১৭ লাখ ছাড়িয়ে যাবে
এই গাড়ি কিনতে ৯ শতাংশ সুদের হারে ১১.২৬ লক্ষ টাকার ঋণ ও ৭ বছরের মেয়াদের ভিত্তিতে, গ্রাহককে পুরো ঋণ পরিশোধের সময়কালে প্রায় ৩.৯৫ লক্ষ টাকা সুদ দিতে হবে। যার অর্থ দাঁড়াল, গাড়ির মূল দামের পাশাপাশি ঋণের কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুদের খরচও যুক্ত হচ্ছে।
গাড়ির 'অন-রোড' দাম ও ৭ বছরের ঋণের সুদের হিসাব ধরলে, 'ভিক্টোরিস সিএনজি' মোট খরচ প্রায় ১৭.২২ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ, কোনও গ্রাহক যদি ২ লক্ষ টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ও ৯ শতাংশ সুদের হারে ৭ বছরের জন্য ঋণ নিয়ে গাড়িটি কেনেন, তবে সুদের পরিমাণ গাড়ির 'এক্স-শোরুম' দামকেও উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে যাবে।

৫০,০০০ টাকা বেতনে কি এই গাড়ি কেনা ঠিক হবে ?
একটা বিষয় গাড়ি কেনার আগে মাথায় রাখবেন, গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ইএমআই (EMI)-এর ওপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত নয়। কম ইএমআই-এর জন্য ঋণের মেয়াদ বাড়ালে মাসিক আর্থিক চাপ কমে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সুদ দিতে হওয়ায় মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে। তবে, গ্রাহক যদি বেশি পরিমাণ ডাউন পেমেন্ট করতে পারেন, তাহলে ঋণের পরিমাণ এবং সুদের খরচ—উভয়ই কমানো সম্ভব। আমাদের পরামর্শ হলো, আপনার বেতন যদি ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে হয়, তবে আপনি অনায়াসেই এই গাড়িটি কেনার সামর্থ্য রাখেন।
মারুতি সুজুকি 'ভিক্টোরিস'-কে ৪ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের একটি এসইউভি (SUV) হিসেবে বাজারে এনেছে। এটি মারুতি গ্র্যান্ড ভিটারা, হুন্ডাই ক্রেটা, কিয়া সেল্টোস, হোন্ডা এলিভেট, মাহিন্দ্রা এক্সইউভি৭০০ (XUV700) এবং স্করপিও-এন (Scorpio-N)-এর মতো গাড়িগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
আরও পড়ুন : ভারতে মারুতির এই ইভি এলে বদলে যাবে কার মার্কেট, জাপানে হচ্ছে লঞ্চ






















