আপনি আপনার নিকটস্থ থানায় বা মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এছাড়াও, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে অনলাইনে অভিযোগ জানানো সম্ভব।
Cyber Crime : বার বার মেসেজ পাঠিয়ে হয়রানি করছে কেউ , কোথায় অভিযোগ করবেন, কী সাজা জানেন ?
Harassment Law : কেউ ইচ্ছে করে আপনাকে বার বার মেসেজে পাঠিয়ে বিরক্ত করলে বড় সাজা হতে পারে অভিযুক্তের।

Harassment Law : আপনিও যদি সামাজিক মাধ্যমে হেনস্থার শিকার হন, তাহলে করতে পারেন এখানে অভিযোগ। সেই ক্ষেত্রে বড় সাজা হতে পারে অভিযুক্তের।
মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে ফোন বা মেসেজ করে কাউকে হয়রানি করাটা অত্যন্ত সহজ। অনেক সময় বিষয়টি একটি সাধারণ কথোপকথন দিয়ে শুরু হয়, কিন্তু যখন অন্য পক্ষ স্পষ্টভাবে বারণ করে দেয়, তারপরও যদি কেউ রাতে ফোন বা মেসেজ করতে থাকে, তখন তা সরাসরি মানসিক হয়রানির পর্যায়ে চলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে মনে করেন যে বিষয়টি উপেক্ষা করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
বড় অপরাধ ধরা হয়
কিন্তু বাস্তবতা হল, এই ধরনের আচরণ একটি গুরুতর অপরাধ। আইন এটিকে হালকাভাবে দেখে না। যদি কেউ আপনাকে মাসের পর মাস ধরে ফোন এবং মেসেজ করে হয়রানি করে থাকে, তবে তা আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার উপর একটি আক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো চুপ না থেকে সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করা।
এই কাজের জন্য কী শাস্তি হতে পারে?
যদি কোনো পুরুষ কোনও নারীর বার বার বারণ করা সত্ত্বেও ফোন, মেসেজ, ভিডিও কল বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করতে থাকে, তবে আইনত এটিকে স্টকিং বা পিছু নেওয়া বলে গণ্য করা হয়। এটি নতুন ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী একটি সরাসরি অপরাধ। আগে এই আইনটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ডি ধারা ছিল।
এই অপরাধে অভিযুক্তকে তিন বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা বা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত করা হতে পারে। অন্য পক্ষ স্পষ্টভাবে বারণ করার পরেও মেসেজ পাঠানোটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্রমাগত হয়রানি করাকে সাইবার হয়রানিও হিসেবে ধরা হয়, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তোলে।
কোথায় অভিযোগ করবেন ?
যদি কেউ আপনাকে ক্রমাগত হয়রানি করে, তবে প্রথমে সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করুন। মেসেজের স্ক্রিনশট, কল হিস্টরি, ভয়েস নোট, সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট এবং কল রেকর্ডিং এক্ষেত্রে খুব কাজে আসে। এরপর নিকটস্থ থানায় বা মহিলা থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন। যদি আপনি সরাসরি থানায় যেতে না চান, তবে আপনি ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে অনলাইনেও অভিযোগ জানাতে পারেন।
এছাড়াও, মহিলা হেল্পলাইন ১০৯০ নম্বরে ফোন করে বা জরুরি পরিস্থিতিতে ১১২ নম্বরে ডায়াল করে তাৎক্ষণিক সাহায্য পাওয়া যায়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ নম্বরটি ট্র্যাক করে অভিযুক্তকে ফোন করে এবং প্রয়োজনে এফআইআর দায়ের করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
Frequently Asked Questions
সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়রানির শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করা যেতে পারে?
আইনত হয়রানির কোন কোন বিষয়গুলো গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়?
বারবার বারণ করা সত্ত্বেও ফোন, মেসেজ, ভিডিও কল বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করাকে স্টকিং বা পিছু নেওয়া হিসেবে গণ্য করা হয়, যা একটি গুরুতর অপরাধ।
হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির কী ধরনের শাস্তি হতে পারে?
এই অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তিন বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত করা হতে পারে।
হয়রানির অভিযোগ করার জন্য কী ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করা উচিত?
মেসেজের স্ক্রিনশট, কল হিস্টরি, ভয়েস নোট, সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট এবং কল রেকর্ডিংয়ের মতো প্রমাণ সংগ্রহ করা উচিত।






















