Bangladesh Shanta Paul : বাংলাদেশের শান্তাও কি 'পাক গুপ্তচর' জ্যোতি মালহোত্রার মতোই? উঠে আসছে বিস্ফোরক তথ্য
Bangladeshi actress Shanta Paul : জ্যোতির বিরুদ্ধে যেমন পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, তেমনটাই কি শান্তা করে থাকেন বাংলাদেশের জন্য? তাঁর কার্যকলাপে তেমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেই না।

আবির দত্ত, কলকাতা : এ যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশের মডেল অভিনেত্রী শান্তা পাল সম্পর্কে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। শান্তার কীর্তি মনে করিয়ে দিচ্ছে পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত জ্যোতি মালহোত্রার কার্যকলাপ। শান্তার বিলাসবহুল , চমকে দেওয়া জীবন যাত্রার পেছনে কি লুকিয়ে বড় কোনও রহস্য? জ্যোতির বিরুদ্ধে যেমন পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, তেমনটাই কি শান্তা করে থাকেন বাংলাদেশের জন্য? তাঁর কার্যকলাপে তেমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেই না।
পুলিশ সূত্রে খবর, বাংলাদেশের নাগরিক শান্তা পাল ভারতে এসেছিলেন ২০২৩ সালে। তারপর থেকে সঙ্গীকে নিয়ে এখানেই রয়ে যান তিনি। ধৃত শান্তা পালের ভিসা ও পাসপোর্ট, দুটোর মেয়াদই শেষ। পুলিশ সূত্রে খবর, শান্তাকে জেরা করে এবং তাঁর সোশাল মিডিয়া পেজ ঘেঁটে দেখা গেছে, ভারতে ভিসা জোগাড়ের কাজে অন্যদের কাছে রীতিমতো পরামর্শদাতা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। পদ্মার ওপারে পালাবাদলের পর, ভারত-বাংলাদেশ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এপারে ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে যখন কড়াকড়ি চলছে, তখন বাংলাদেশের নাগরিকদের কৌশলে মেডিক্যাল ভিসার জন্য আবেদনের পরামর্শ দিতে দেখা গেছে শান্তা পালকে। বাংলাদেশের শান্তা পাল এরকমভাবে কতজনকে ভারতে মেডিক্যাল ভিসা পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এখানেই শেষ নয়, ভারতে অনৈতিক ভাবে বাস করা শান্তার জীবনযাত্রা এককথায় রঙিন ! পুলিশ সূত্রে খবর, এরাজ্যের সৈকত শহর দিঘা থেকে প্রতিবেশী সিকিমের গ্যাংটক, সর্বত্র ঘুরে সোশাল মিডিয়ায় তার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছেন বাংলাদেশের মডেল অভিনেত্রী। এমনকি ট্রাভেল ভ্লগ তৈরি করতে চিন সীমান্তের কাছে নাথুলা পাস পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি! গোয়েন্দা সূত্রে খবর, 'আসান ট্রাভেলস কলকাতা অ্যান্ড বাংলাদেশ' নামে সোশাল মিডিয়ায় একটি পেজ খুলে তাঁর ট্যুরিজম ব্যবাসর প্রচার চালাচ্ছিলেন শান্তা পাল। এর পাশাপাশি হোটেল খোলার জন্য তিনি এদেশেরই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়েছিলেন কিনা, ধৃতের ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বুধবার শান্তা পালকে, প্রতারণার মামলায় কলকাতা থেকে গ্রেফতার করে লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখা। মা-বাবা, স্বামীকে নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড়ে ভাড়া থাকতেন তিনি। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ঠিকানার দুটি আধার কার্ড, একটি কলকাতার, আরেকটা বর্ধমানের! এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে প্যান এবং ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড! পুলিশ সূ্ত্রে খবর, একদিকে যখন এতগুলি ভারতীয় নথি উদ্ধার হয়েছে, তেমনই শান্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্টও!






















