Murshidabda News: সামশেরগঞ্জে বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ১৩ জনই স্থানীয় ! মুর্শিদাবাদের দাঙ্গা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বহিরাগত-তত্ত্ব খারিজ পুলিশেরই চার্জশিটে
Mamata On on Murshidabad: সামশেরগঞ্জে বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ডে পুলিশের চার্জশিটে যে তেরোজন অভিযুক্তের নাম আছে, তাদের প্রত্য়েকের বাড়ি সামশেরগঞ্জের থানা এলাকাতেই

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, সৌমেন চক্রবর্তী ও বিজেন্দ্র সিংহ, কলকাতা: মুর্শিদাবাদের দাঙ্গা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বহিরাগত-তত্ত্ব খারিজ হয়ে গেল পুলিশেরই চার্জশিটে। সূত্রের খবর, সামশেরগঞ্জে বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ডে পুলিশের চার্জশিটে যে তেরোজন অভিযুক্তের নাম আছে, তাদের প্রত্য়েকের বাড়ি সামশেরগঞ্জের থানা এলাকাতেই। অর্থাৎ প্রত্য়েকেই স্থানীয়। এনিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে বিরোধীরা। পাল্টা জবাব দিয়েছে শাসক দল।
আরও পড়ুন, বিদেশ ফেরৎ সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী, যোগ দিলেন অভিষেকও
ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদের নামে উন্মত্ত বিক্ষোভকারীদের হিংসার বলি হতে হয়েছিল ধুলিয়ানের জাফরাবাদের বাসিন্দা বাবা-ছেলেকে। বাড়ি থেকে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল সত্তর বছরের হরগোবিন্দ দাস এবংতাঁর ছেলে চন্দন দাসকে (৪০)।এর আগে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন পর,সুতির বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল দিলদার নাদাবকে। বীরভূমের মুরারই থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তার ভাই কালু নাদাবকে।
জোড়া হত্যাকাণ্ডের ৫ দিনের মাথায়,মুর্শিদাবাদেরই সুতি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল মূল চক্রীকে। জাফরাবাদের বাসিন্দা ধৃত ইনজামুল হকই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে বলে দাবি করেছিল পুলিশ। তৃণমূলের তরফে যখন বারবার অভিযোগ করা হচ্ছিল বাংলাদেশ থেকে লোক ঢুকিয়ে অশান্তি ঘটানো হয়েছে, তখন বিরোধীদের পাল্টা প্রশ্ন, যদি বাংলাদেশিরাই এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকে, তাহলে ধৃতদের মধ্য়ে কজন বাংলাদেশী আছে?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,' বহিরাগতরা কিছু লোককে স্থানীয় সাথে নিয়ে, কীভাবে করেছে সেই চক্রান্ত ফাঁস আমরা করে দেব।' মুর্শিদাবাদের দাঙ্গা নিয়ে, বহিরাগত তত্ত্ব খাড়া করেছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী। কিন্তু, এবার সেই তত্ত্ব খারিজ হয়ে গেল তাঁরই পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে। মুর্শিদাবাদে দাঙ্গায় সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে খুন হয়েছিলেন। বাবা-ছেলে হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাস। সেই মামলায় ১৩ জন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, সেই চার্জশিটেই উল্লেখ করা হয়েছে, এই ১৩ জন অভিযুক্তরই বাড়ি সামশেরগঞ্জ থানা এলাকায়। অর্থাৎ পুলিশই বলছে, প্রত্য়েকে স্থানীয় বাসিন্দা। কেউ বাইরের নন। যা মুখ্য়মন্ত্রীর বহিরাগত-তত্ত্বের একেবারে উল্টো। সূত্রের খবর, পুলিশের চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে দিলদার নাদাব, আসমাউল নাদাব, ইনজামুল হক, জিয়াউল হক, ফকরুল হক, আজফারুল শেখ, মনিরুল শেখ
একবাল শেখ, নুরুল ইসলাম, সাবা করিম, হজরত শেখ, আকবর আলি এবং ইউসুফ শেখ।
সূত্রের খবর, পুলিশের চার্জশিটে বলা হয়েছে, এই ১৩ জন অভিযুক্তর প্রত্য়েকের বাড়ি মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানা এলাকায়। আর খুনের ঘটনাও ঘটেছে সামশেরগঞ্জ থানা এলাকাতেই। বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে মুখ্য়মন্ত্রী বহিরাগত তত্ত্ব খাড়া করলেন কীসের ভিত্তিতে? কী কারণে? সব মিলিয়ে মুখ্য়মন্ত্রীর তত্ত্ব এবং চার্জশিটে পুলিশের অবস্থান ঘিরে নতুন বিতর্ক।





















