Medical Admission Certificate: ভুয়ো ST সার্টিফিকেট নিয়ে মেডিক্যালে ভর্তি! এবার কি চিহ্নিত করে বাতিল করা হবে অ্যাডমিশন?
ভুয়ো তফশিলি উপজাতি শংসাপত্র নিয়ে যে ৩০ জন সন্দেহভাজন পড়ুয়া প্রথম রাউন্ডে কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিয়েছেন

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ভুয়ো ST সার্টিফিকেট নিয়ে মেডিক্যালে ভর্তির অভিযোগে এবার সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সন্দেহভাজন ৪৭ জনের মধ্যে ১৭ জন অংশই নিলেন না প্রথম রাউন্ডের কাউন্সেলিংয়ে। বাকি ৩০ জন সুযোগ পেয়ে গেছেন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে।
এই ৩০ জনের অনেকে সুযোগ পেয়েছেন ডেন্টাল কলেজেও। ভুয়ো তফশিলি উপজাতি শংসাপত্র নিয়ে যে ৩০ জন সন্দেহভাজন পড়ুয়া প্রথম রাউন্ডে কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩ জন সুযোগ পেয়েছেন উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে। কল্যাণী JNM-এ সুযোগ পেয়েছেন ৩ জন পড়ুয়া। NRS-এ ২ জন, আর জি কর মেডিক্যালে ২ জন এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পেয়েছেন ৩ জন পড়ুয়া।
এছাড়াও তালিকায় রয়েছে রাজ্যের আরও একাধিক মেডিক্যাল কলেজ। যার মধ্যে রয়েছে এসএসকেএম, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের মতো রাজ্যের প্রথম সারির একাধিক হাসপাতাল। যেখানে ইতিমধ্যেই ভুয়ো ST সার্টিফিকেট নিয়ে একজন করে পড়ুয়া কাউন্সেলিংয়ের পর সুযোগ পেয়ে গেছেন বলে অভিযোগ।
রাজ্য ST ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিতানচন্দ্র টুডু বলেন, 'তারা কাউন্সেলিংয়ে যোগ না দিলেও তাদের কাছে তো সার্টিফিকেটগুলো রয়েই গেল। এগুলো কাদের কাছ থেকে পেয়েছিল তার তদন্ত হোক। আমরা মনে করছি যে ১৭ জন আসেনি সবকটাই ভুয়ো সার্টিফিকেট।'
সম্প্রতি ভুয়ো ST শংসাপত্র দিয়ে মেডিক্যালের ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। রাজ্য আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের তরফে অভিযোগ করা হয়, ভুয়ো সার্টিফিকেট জমা দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন ৪৫ জন। অভিযোগ পেয়ে তদন্তের আর্জি জানিয়ে স্বাস্থ্যভবনকে চিঠি দেয় আদিবাসী উন্নয়ন দফতর। পরে তাদের তরফেই জানানো হয়, ভুয়ো সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন ৪৭ জন।
এই প্রেক্ষিতে, রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষদের ইমেল পাঠিয়ে ভুয়ো শংসাপত্র দেখিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের খোঁজার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা। সেই মতো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেডিক্যাল কলেজগুলির তরফে সেইসব নামও জমা পড়ে।
এই নিয়ে ইতিমধ্যেই জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। মামলা করেছেন তিন পড়ুয়া। তাঁদের অভিযোগ, ভুয়ো তফশিলি উপজাতি শংসাপত্র নিয়ে এতজন ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কারণে, তাঁরা মেডিক্যালে সুযোগ পাননি। এবার কি ভুয়ো সার্টিফিকেটধারীদের চিহ্নিত করে বাতিল করা হবে অ্যাডমিশন? সেটাই দেখার।





















