Pratik ur Rahaman : আজ সত্যিই অভিষেকের হাত থেকে পতাকা নিচ্ছেন প্রতীক উর? এবিপি আনন্দে স্পষ্ট উত্তর...
এবার প্রতীক উরের গন্তব্য কোথায়? একদা প্রতিদ্বন্দ্বী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই কি লাল থেকে সবুজ হবেন তিনি? অস্বস্তি হবে না?

প্রতীক উর রহমান। বাম ফ্রন্টের লড়াকুর তরুণ মুখ - এই ছিল তাঁর পরিচয়। ২০২৬ ভোটের আগেই হঠাৎ বিদ্রোহী তিনি। সরাসরি বিস্ফোরক মহম্মদ সেলিম ও দলের বেশ কিছু হেভিওয়েটের বিরুদ্ধে। এবার গন্তব্য কোথায়? একদা প্রতিদ্বন্দ্বী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই কি লাল থেকে সবুজ হবেন তিনি? অস্বস্তি হবে না? এবিপি আনন্দ-র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (Executive Vice President) সুমন দের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনে প্রতীক উর দিলেন স্পষ্ট জবাব।
সুমন দে : প্রতীক উর দেখো আমি তোমায় প্রশ্ন করতেই পারি, তুমি কোন দলে যাচ্ছ? কিন্তু তার কি কোনও প্রয়োজন আছে? মানে তুমি যখন বলো সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল অসাধারণ, নজিরবিহীন, কিংবা পিনারাই বিজয়ন আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিলেন না কেন, কিংবা তুমি বলো, ডায়মন্ড হারবার থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করনি, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছ, কিংবা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভূয়সী প্রশংসা করো, তখন কি প্রশ্ন করার দরকার হয় তুমি কোন দলে যাচ্ছ? বরং তখন প্রশ্ন হতে পারে তুমি তৃণমূল কংগ্রেসে কবে যোগ দিচ্ছ? এবং দ্বিতীয় প্রশ্ন হতে পারে, শনিবার অর্থাৎ আগামীকাল তুমি কি আমতলার মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিচ্ছ? এর বাইরে তো কোনও প্রশ্ন থাকে না...
প্রতীক উর: সুমন দা, আমি স্পষ্ট কথা স্পষ্ট বলতে পছন্দ করি, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমার আসে না। যতদিন এসএফআই করেছি, বুক ঠুকে এসএফআই করেছি। যতদিন সিপিআইএম করেছি, বুক ঠুকে সিপিআইএম করেছি। যদি কোনওদিন অন্য কোনও দল করি, বুক ঠুকে বলব এবং সেই দলটাই করব। এখন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। দরজাটা খুলে দেখি দরজার সামনে কে আছে? যার হাত পাব, সেই হাতটা হাতটা ধরব। আমি তো মৌচাকে ঢিল মেরেছি, আপনার কথায় সদর দফতরে কামান দেগেছি, অনেক মৌমাছি তাড়া করেছে।
সুমন দে : এটা কি ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভের ব্যপার? যে আগে অফার দেবে, তার দলে যাব?
প্রতীক উর: আমার হোয়াটস অ্যাপ আছে, ব্যক্তিগত অনেক মেসেজ করেছেন দেখানো উচিত নয়। পশ্চিমবঙ্গের যতগুলো নামি, দামি, অনামি সংগঠন, রাজনৈতিক দল, কেউ না কেউ, ছোট, বড়, মেজ, সবাই কনট্যাক্ট করেছে, সবাই কথা বলেছে। তার মধ্যে থেকে আমার যেটা বেটার মনে হবে আমি সেদিকে যাব। প্রথমে ভেবেছিলাম রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেব। রাজনীতির মধ্যে থাকবই না। সব ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু এই যে ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হচ্ছে, এখানে দাঁড়িয়ে আমার তো ডিফেন্ড করার জন্য কাউকে লাগবে, একটা শক্ত মাটি লাগবে এই আক্রমণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। কারণ লড়াইটা মতাদর্শের লড়াই হচ্ছে না।
সুমন দে : তুমি সন্ন্যাস নিলে সেটা তোমার আত্মহত্যার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হত, মানে রাজনৈতিক আত্মহত্যা তুমি বলছ। আরেকটা রাজনৈতিক দল মানে তো তোমার পুনর্জন্ম হতে চলেছে...
প্রতীক উর: সুমন দা, আপনার থেকে যদি কেউ আপনার সাংবাদিকতা কেড়ে নিতে চায়, আপনি মানবেন? আমার থেকে যদি কেউ আমার রাজনৈতিক সত্ত্বা কেড়ে নিতে চায়, আমি মানব কেন?
সুমন দে : কিন্তু একটা অস্বস্তির জায়গা থাকবে না, যার বিরুদ্ধে তুমি ভোটে দাঁড়িয়ে ও তার পরেও এতকিছু বলেছ, লোকে তো বলবে, হয় তখন যা বলেছ সেটা সত্যি, নয়ত এখন যা বলছ , সেটা সত্যি। দুটো তো একসঙ্গে সত্যি হতে পারে না।
























