AAP News: ভোটমুখী পঞ্জাবে তৎপর ED, গ্রেফতার মন্ত্রী, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলছে আম আদমি পার্টি
ED Raids Sanjeev Arora: ভোটমুখী পঞ্জাবে ফের সক্রিয় ED? বিজেপি-কে আক্রমণ আম আদমি পার্টির। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ।

নয়াদিল্লি: ভোটমুখী পঞ্জাবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের ধরপাকড়। গ্রেফতার করা হল পঞ্জাবের শিল্পমন্ত্রী সঞ্জীব আরোরাকে। আর্থিক তছরুপ মামলায় শনিবার নতুন করে সঞ্জীব এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযানে নামে ED. আর তার পরই গ্রেফতার করা হয় সঞ্জীবকে। গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। ED-কে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করছে বলে অভিযোগ তুলছে আম আদমি পার্টি। (ED Raids Sanjeev Arora)
AAP সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরাসরি বিজেপি-কে নিশানা করেন। সঞ্জীবকে যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, তার ফল বিজেপি-কে ভুগতে হবে বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কেজরিওয়ালের দাবি, ED-র হানার খবর পঞ্জাবের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। পঞ্জাবের প্রতি কেন্দ্রের এই আচরণে বিজেপি-র কর্মীরাও আহত বলে দাবি কেজরিওয়ালের। তাঁর কথায়, “যাঁদের গ্রেফতার করেছেন, চার দিন পরই জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন তাঁরা। কিন্তু আগামী ২০ বছর পঞ্জাবে ঢুকতে পারবে না বিজেপি।” (AAP News)
আরও পড়ুন: বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাম-অতিবামেদের পাশে চান মমতা, ‘আপনার মতো চোর লায়াবিলিটি’, কড়া জবাব শতরূপের
শনিবার সকাল ৭টা নাগাদ চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২-তে সঞ্জীবের বাড়িতে পৌঁছন ED আধিকারিকরা। ৭টা বেজে ২৫ মিনিটের পর থেকে শুরু হয় তল্লাশি। প্রায় ২০টি গাড়িতে চেপে সেখানে পৌঁছন ED আধিকারিকরা। পাশাপাশি, বিপুল সংখ্যক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। চণ্ডীগড়ের পাশাপাশি দিল্লির দু’টি ঠিকানাতেও তল্লাশি অভিযান চলে। তল্লাশি চলে গুরুগ্রামের উদ্যোগ বিহারের হ্যাম্পটন স্কাই রিয়্যালটি লিমিটেডে।
আরও পড়ুন: কলকাতা পুরসভার গ্রুপ ছাড়লেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, নতুন সরকার শপথ নিতেই সিদ্ধান্ত, হঠাৎ কী হল?
কিন্তু হঠাৎ এই তল্লাশি অভিযান কেন? ED সূত্রে খবর, আর্থিক তছরুপের অপরাধমূলক বিধির আওতায় সম্প্রতি নতুন একটি মামলা দায়ের হয়। ভুয়ো GST দেখিয়ে ১০০ কোটির বেশি টাকার মোবাইল ফোন কেনা এবং তা রফতানির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে বেআইনি ভাবে দুবাই এবং ভারতে টাকা পাচারেরও। অস্তিত্বহীন সংস্থার নাম করে বেআইনি লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
একমাসেরও কম সময় আগে, গত ১৭ এপ্রিল সঞ্জীবের সঙ্গে সংযোগ থাকা একাধিক ঠিকানায় হানা দেয় ED. বিদেশি মুদ্রা লেনদেন নিয়ে সেবার তল্লাশি চলে। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সঞ্জীবের ১৫৭.১২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয় সেবার। আম আদমি পার্টির লুধিয়ানা ওয়েস্টের বিধায়ক সঞ্জীব। তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে রাজি, সত্যের জয় হবে বলে জানিয়েছেন সঞ্জীব। এর আগে, ২০২৪ সালেও তাঁর বাড়িতে হানা দেয় ED. রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন শিল্পের জন্য নির্ধারিত জমির অপব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয় সেই সময়।
অতি সম্প্রতি আম আদমি পার্টির প্রাক্তন সাংসদ অশোক মিত্তলের বাড়িতেও তল্লাশি চলে। আর তার পরই রাঘব চাড্ডার সঙ্গে তিনিও বিজেপি-তে যোগ দেন। এদিন সঞ্জীবের ঠিকানায় হানা দেওয়া নিয়ে তাই বিজেপি-কে আক্রমণ করছে AAP. পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিংহ মানের অভিযোগ, বিরোধীদের বিরুদ্ধে ED এবং CBI-কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। পঞ্জাব থেকেই ED-বিজেপি-র ‘অশুভ আঁতাতের অবসান ঘটবে’ বলেও লেখেন মান।
রাঘব, অশোকের প্রসঙ্গ টেনে কেজরিওয়াল লেখেন, ‘ED তল্লাশির পরই বিজেপি-তে যোগ দেন অশোক মিত্তল। সঞ্জীব আরোরা যোগ দেননি বলে ফের তল্লাশি’। ২০২৭ সালের গোড়ায় পঞ্জাবে নির্বাচন। তার আগে সেখানে তল্লাশিতে জোর দিচ্ছে ED. চলতি সপ্তাহে পঞ্জাবের বিল্ডার, রিয়েল এস্টেট সংস্থা, পঞ্জাবের AAP সভাপতির সহযোগীদের বাড়িতে তল্লাশি চলে।
























