Kasba College Incident: 'আমি কাঁদতে থাকি, বলি আমাকে ছেড়ে দাও', অভিযোগপত্রে পুঙ্খনাপুঙ্খ বিবরণ নির্যাতিতার ! ছেঁড়া পড়ল মমতা-অভিষেকের বিশাল ফ্লেক্স
Kasba News Today : আর জি করকাণ্ডের পর শহরে ফের ভয়াবহ ঘটনা ঘটল ! এবার আইন কলেজেই আইন ভঙ্গের ভয়ঙ্কর অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য !

ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কৃষ্ণেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা : খাস কলকাতায় কলেজের মধ্যে ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন টিএমসিপি নেতা সহ তিন জনকে। রক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ! কলেজে কী ঘটেছিল, অভিযোগপত্রে তা পুঙ্খনাপুঙ্খ জানিয়েছেন নির্যাতিতা। South Calcutta Law College Incident
আর জি করকাণ্ডের পর শহরে ফের ভয়াবহ ঘটনা ঘটল ! এবার আইন কলেজেই আইন ভঙ্গের ভয়ঙ্কর অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য ! দক্ষিণ কলকাতার ল’কলেজের মধ্যে ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ! কসবা থানা থেকে মাত্র ২৫০ মিটার দূরে রাস্তার ডানদিকে সাউথ ক্যালকাটা ল'কলেজ। শহরের বুকে এই রকম জায়গায় অবস্থিত কলেজে ভয়ঙ্কর ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে শহরের নারী নিরাপত্তা। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত- প্রাক্তন TMCP নেতা ও এবং কলেজের অস্থায়ী কর্মী মনোজিৎ মিশ্র এবং কলেজের দুই পড়ুয়া প্রমিত মুখোপাধ্যায় এবং জেব আহমেদকে। Kasba College News
ঠিক কী ঘটেছিল বুধবার রাতে ?
অভিযোগকারিণী কী জানিয়েছেন FIR-এ ? সেই FIR-এর কপি এসেছে এবিপি আনন্দর হাতে। যেখানে তিন অভিযুক্তকে J, M ও P বলে উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারিণী। পুলিশের কাছে জানানো অভিযোগে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন নির্যাতিতা।
FIR-এ তিনি লিখেছেন, বুধবার বেলা ১২টা ৫-এ পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপের জন্য কলেজে যান। কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর অন্যদের সঙ্গে তিনি ইউনিয়ন রুমে বসেছিলেন। সেই সময় কলেজের প্রাক্তনী এবং কর্মী J আমাদেরকে অপেক্ষা করতে বলেন। প্রাক্তনী হলেও J কলেজের TMCP-র ইউনিট প্রেসিডেন্টের ভূমিকা পালন করেন। কলেজে তাঁর প্রবল প্রতাপ। সবাইকে তাঁর কথা শুনে চলতে হয়। তিনিই পড়ুয়াদেরকে TMCP-র নানা পদে বসান। সেভাবেই আমাকে গার্লস সেক্রেটারি করেন। বাকিরা চলে গেলে, বিকেল ৪টে নাগাদ আমিও বাড়ির দিকে পা বাড়াই। তখনই আমাকে বাধা দেওয়া হয়, এবং ইউনিয়ন রুমে বসিয়ে রাখা হয়।
কিন্তু সন্ধের পরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। FIR-এ নির্যাতিতা লিখেছেন, সন্ধে ৬টা নাগাদ J আমাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে বলেন, প্রথম দিন থেকে তিনি আমাকে পছন্দ করেন এবং তাঁর গার্লফ্রেন্ড থাকা সত্ত্বেও আমাকে ভালবাসেন। এমনকী বিয়ের প্রস্তাবও দেন। আমি বলি, আমার বয়ফ্রেন্ড রয়েছে, আমি তাঁকে ভালবাসি, তাঁকে ছাড়া সম্ভব নয়।
অভিযোগকারিণীর দাবি, এরপর কলেজের মেন গেট বন্ধ করে দিয়ে P ও M ফের তাঁকে জোর করে ইউনিয়ন রুমে নিয়ে যান। আমি J-এর পায়েও ধরি। কিন্তু আমাকে ছাড়েননি। J আমাকে নিরাপত্তারক্ষীর ঘরে নিয়ে যেতে বলেন, এবং রক্ষীকে বাইরে বের করে দিতে বলেন। P ও M জোর করে আমাকে গার্ডের রুমে নিয়ে যান। সেখানে J আমার পোশাক খুলে দেন, ধর্ষণ করেন। সেই সময় P ও M দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল। বাধা দিতে চাইলে আমার বয়ফ্রেন্ডকে খুন ও বাবা-মাকে গ্রেফতারের হুমকি দেন। তারপরেও বাধা দিতে চাইলে ধর্ষণ করার সময় তুলে রাখা ২টি ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হয়। হুমকি দেওয়া হয়, যখনই ডাকা হবে, তখনই না এলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়া হবে। সেই সময় আমি একটা মৃতদেহের মতো পড়েছিলাম। ঘটনার পর ফের ইউনিয়ন রুমে নিয়ে গিয়ে কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়।
রাজপথে প্রতিবাদ !
এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন গর্জে উঠল রাজপথ। ল' কলেজের সামনে এদিন বিক্ষোভ দেখায় SFI-DYFI। বন্ধ গেট টপকে কলেজের ভিতরে ঢুকে ছিঁড়ে দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া ফ্লেক্স। এরপর জোর করে কসবা থানায় ঢোকার চেষ্টা করলে শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ! থানার সামনের রাস্তা অবরোধ করে কংগ্রেস। বিক্ষোভ দেখায় বিজেপিও।
কোন নেতা কী বললেন ?
রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, "খোঁজ নিয়ে দেখুন, যাদের নাম এসেছে তারা নির্ঘাত তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে সংযুক্ত হবে। তারা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোকে এভাবে নষ্ট করছে। মেয়েদের সুরক্ষা নেই। আর জি কর কাণ্ডের পর তো তা প্রমাণ হয়ে গেছে...রাজ্যে টপ মেডিক্যাল কলেজগুলোর মধ্যে একটিতে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে..যেখানে আইনের শিক্ষার্থীরা তৈরি হয়, সেখানেই আইন ভাঙা হচ্ছে...তাহলে রাজ্যের অবস্থাটা কী ! রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা সামনা হোম মিনিস্টার হিসাবে। তারপরে তাঁর এই যে অদার্থতা, তিনি যতই জগন্নাথদেবের রথ টানুন না কেন ...কালীগঞ্জে মেয়েকে মারা হচ্ছে বোমা দিয়ে, কোথাও মেয়ের ইজ্জত লুঠ করা হচ্ছে...আর জি করে অভয়াকে ধর্ষণ করে খুন করা হচ্ছে...এই পাপের হাত থেকে উনি বাঁচবেন না।"
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, "TMC-র লোক ছাড়া, TMC-র জল্লাদরা ছাড়া, TMC পার্টির দুষ্কৃতী ছাড়া, একাজ বাংলায় এই মুহূর্তে আর কারো করার ক্ষমতা আছে বলে আমি মনে করি না। কলেজের ইউনিয়ন রুমে একজন মেয়েকে এভাবে টানা-হেঁচড়া করে তাঁকে গষধর্ষণ করা হল, সেটা বাংলার মানুষ দেখতে পাচ্ছে। এর থেকে লজ্জার-ঘৃণার-নিন্দার আমাদের কাছে কিছু নেই। একটা মেয়েকে বোমা মেরে মেরে দিলেন, এখানে গণধর্ষণ করলেন, আর জি করে ডাক্তারকে মারলেন, এভাবে বাংলার আর কত মহিলাকে খুন করতে চায় আপনাদের লোক।"
সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, "আর জি করের ঘটনায় গোটা পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের ধর্ষকদের কী বার্তা দিয়েছিল, তৃণমূলে নেতাগুলোকে বার্তা দিয়েছিল যে তোমরা ধর্ষণ করো, সরকার তোমার পাশে আছে, দিদি তোমার আছে। দিদি ঠিক সেটিং করে তোমাদের বাঁচিয়ে নেবে। পশ্চিমবঙ্গের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩-১৪ বছর ধরে কোনও নির্বাচন হয় না। প্রত্যেক দিন রাতে মদের আসর বসা থেকে শুরু করে, এমনকী পর্নোগ্রাফির ব্যবসা করা...কলেজের ইউনিউনয় রুমগুলিতে চলছে। এটা তৃণমূলের চরিত্র, তৃণমূলের নেতাগুলোর চরিত্র। যতদিন এই সরকার চলছে, এরকম একটার পর একটা ঘটনা ঘটতেই থাকবে। বলতে খারাপ লাগলেও, এটাই সত্যি।"
কী বলল রাজ্যের শাসকদল ?
তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে শশী পাঁজা বলেন, "আজকের বিষয় অত্যন্ত মর্মাহত এবং খুবই বেদনাদায়ক। কলকাতা পুলিশ যে মুহূর্তে জানতে পেরেছে, সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নিয়েছে। মেয়েটির যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, একেবারে তিন জনকেই হাজতে পুরে দিয়েছে। মেয়েটির বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তিনটি ছেলেকেই শনাক্ত করে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মোবাইলও সিজ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন হয়েছে। মেয়েটি ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমরা রয়েছি। কিন্তু, সত্যিই সমবেদনা জানানোর ভাষা থাকে না। কিন্তু, মেয়েকে যদি একটুও শান্তনা দিতে পারি তাহলে বলব, দেখো তোমার উপর যারা এই বর্বর ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ধরে একেবারে হাজতে পাঠিয়েছি। তদন্তে রয়েছে। মেয়েটি ন্যায্য বিচার পাক।"
তাঁর সংযোজন, "আসুন না আলোচনাটা এভাবেই হোক, যে অপরাজিতা বিল ...যেটা আমাদের পবিত্র বিধানসভায় পাস হয়ে গেছে ১০ মাস আগে সর্বসম্মতভাবে। মেয়েদের পক্ষে বিল। অপরাধ হলে, কঠিন শাস্তি। মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। কে আটকে রেখেছে ? বিধায়কদের দাবি, অপরাজিতা বিল আইন হোক। কেন বিল হিসাবে রয়েছে ? কারণ, ভারতীয় জনতা পার্টি আটকে রেখেছে। রাজনীতি করতে চাই না। এখানে যদি ন্যায্য দাবি থাকে, রাস্তায় বাঁদরামো আপনারা করবেন না। আপনারা এই বিলের সমর্থন করুন। মহিলার শরীর তো আপনাদের রাজনীতি করার জন্য যুদ্ধক্ষেত্র নয়।"
যেখানে শিক্ষার আলো জ্বলে ওঠে, সেখানে এ কেমন অন্ধকার ? উত্তর দেবে কে ?






















