TMC Sushanta Ghosh: ফিরহাদ হাকিমকে বলেছিলাম, চলো আমরা সবাই মিলে পদত্যাগ করি : সুশান্ত ঘোষ
Sushanta Ghosh: 'সেদিন দেবাশিস কুমার এবং শুভাশিস চক্রবর্তীর সামনে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে বলেছিলাম, চলো আমরা সবাই মিলে পদত্যাগ করি। তিনিও আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন। জানি না এখন স্বীকার করবেন কিনা'

কলকাতা : সদ্যই বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কেউ তাঁকে প্ররোচনা দেয়নি। নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পাশাপাশি এও বলেছেন যে, তিনি বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দল ছাড়েননি। এছাড়াও ইস্তফা দেওয়া প্রসঙ্গে সুশান্ত ঘোষ এও বলেছেন, 'আজকে হয়তো স্বীকার করবেন না... যেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কাউন্সিলরদের মিটিং ছিল, সেদিন আমি দেবাশিস কুমার এবং শুভাশিস চক্রবর্তীর সামনে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে বলেছিলাম, চলো আমরা সবাই মিলে পদত্যাগ করি। তিনিও আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন। জানি না এখন উনি স্বীকার করবেন কিনা...'
বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর আরও অনেক কথাই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন সুশান্ত ঘোষ। সুশান্ত বলেছেন, ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের যেসব দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, তার অনেক জায়গাতে তৃণমূলের লোকেরাই ভাঙচুর চালিয়েছে। সুশান্ত এও বলেন, বরো চেয়ারম্যান পদ থেকেই ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। দল ছাড়েননি। দল নষ্ট করে না দিলে এখনও তিনি তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক পদেই রয়েছে। কাউন্সিলর পদেও আছেন বলে জানিয়েছেন সুশান্ত ঘোষ। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেননি তিনি। 'বরো চেয়ারম্যান না হয়েও দল করেছি প্রায় ২৫ বছর। বরো চেয়ারম্যান না থাকলেও আরও ২০ বছর দল করতে পারি। কেউ কোনও প্ররোচনা দেয়নি। যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিজের দায়িত্বে। নিজের বিবেকের কাছে মনে হয়েছে পদত্যাগের কথা। ৭-১০ দিন ভেবেছি। তারপর মনে করেছি মানুষের রায় মেনে নিতে হবে এবার।' এখনও নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিক বলছেন সুশান্ত ঘোষ। তাঁর কথায়, তিনি 'তৎকাল কিংবা প্যারাস্যুট' নন। তৃণমূল কংগ্রেস তৈরির পিছনে তাঁরও রক্ত-ঘাম ছিল, কাঠবেড়ালির মত ভূমিকা পালন করেছি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। তারা পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। অন্যদিকে, বিজেপি পেয়েছে ২০৮টি আসন। পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গত ৯ মে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়েছে বিজেপি। শুরু থেকেই একদম অ্যাকশন মোডে রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও ধরনের দুর্নীতি, তোলাবাজি, বেনিয়ম, অনিয়ম, বেআইনি কাজ রেয়াত করা হবে না। অভিযুক্তদের বরদাস্ত করা হবে না। উপযুক্ত ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















