El Nino : আশঙ্কাই সত্যি ! তৈরি এল-নিনো, তছনছ করবে ভারতের বর্ষা মানচিত্র? প্রচণ্ড গরমে পুড়বে দেশ?
প্রাণান্তকর গরমে ছটফট করতে পারে মানুষ। সেই এল-নিনো একেবারে শুরু হয়ে গিয়েছে বলে পূর্বাভাস আইএমডি-র।

এল-নিনো ( El Nino ) । এই আবহাওয়া পরিস্থিতির জেরে ভারতে বর্ষার মানচিত্র পুরো বদলে যেতে পারে। এই আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন আবহবিদরা। আর এর জেরে বিলম্বিত বর্ষা থেকে, কম বৃষ্টিপাত ও অসময়ে অতিবৃষ্টির সঙ্কট তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রাণান্তকর গরমে ছটফট করতে পারে মানুষ। সেই এলনিনো একেবারে শুরু হয়ে গিয়েছে বলে পূর্বাভাস আইএমডি-র।
ভারতের বর্ষার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কথা জানাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। সংস্থার সর্বশেষ ENSO ও Indian Ocean Dipole (IOD) বুলেটিন অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো (El Nino) পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। IMD জানিয়েছে, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এল নিনোর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলও এই উষ্ণতার প্রতি সাড়া দিতে শুরু করেছে। ফলে সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের যুগ্ম ব্যবস্থা এখন স্পষ্টভাবে এল নিনো অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, বর্তমানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি বিদ্যমান এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরসুম জুড়ে তা আরও জোরদার হতে পারে। Monsoon Mission Coupled Forecast System (MMCFS)-এর পূর্বাভাসও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কী বলছে তথ্য?
জুন ২০২৬-এ মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এল নিনোর সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে এল নিনো পর্যবেক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক Nino 3.4 Index-এর তিন মাসের গড় মান +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে গিয়েছে। এর ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো ঘোষণা করা হয়েছে। IMD আরও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের বৃহৎ অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচেও অস্বাভাবিক উষ্ণ জলরাশি জমা রয়েছে। এই উষ্ণ জল আগামী মাসগুলিতে উপরে উঠে এসে এল নিনোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বর্ষার উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
ঐতিহাসিকভাবে এল নিনোর সঙ্গে ভারতের দুর্বল বর্ষা, স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়া এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে খরার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তবে IMD স্পষ্ট করেছে যে, শুধু এল নিনোই ভারতের বর্ষা নির্ধারণ করে না। বর্তমানে ভারত মহাসাগরে নিরপেক্ষ Indian Ocean Dipole (IOD) পরিস্থিতি রয়েছে এবং তা বর্ষার বেশিরভাগ সময় বজায় থাকতে পারে।
ভারতে এর কী কী প্রভাব পড়তে পারে , জানিয়েছেন পরিবেশবিদ সুজীব কর।
অনাবৃষ্টির ছায়া, খাদ্যসঙ্কটের আশঙ্কা
কৃষিক্ষেত্রে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
- বর্ষার শুরুতেই বৃষ্টির ঘাটতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
- উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা ও দক্ষিণবঙ্গের বড় অংশে জলসঙ্কট দেখা দিতে পারে।
- চাষাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা।
খাদ্যসঙ্কটের সতর্কবার্তা
- আবহাওয়াবিদ সুজীব করের মতে, অনাবৃষ্টির কারণে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ভারতের একাধিক এলাকায় চাষে প্রভাব পড়লে খাদ্য উৎপাদন কমে যেতে পারে।
- এর জেরে ভবিষ্যতে খাদ্যসঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২৩ জুনের পর বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি
দক্ষিণায়নের প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা
- ২৩ জুনের পর সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হবে।
- স্থলভাগ ও সমুদ্রের উপর একাধিক নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে।
- এর ফলে বর্ষা হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না
- অতিসক্রিয় বর্ষার কারণে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
- একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা।
- বন্যার কারণে কৃষিক্ষেত্রে নতুন করে ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আশার আলো দেখাচ্ছে IOD
এদিকে ১১ জুন এল নিনোর সূচনা ঘোষণা করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (JMA)। তাদের মতে, জুলাই মাস নাগাদ ইতিবাচক বা Positive IOD গড়ে উঠতে পারে। যদি তা হয়, তাহলে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর কিছু নেতিবাচক প্রভাব ভারতের বর্ষার উপর কমে যেতে পারে। ফলে আপাতত এল নিনো নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি আগামী কয়েক মাসে বর্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
আরও পড়ুন : কালবৈশাখীর সময় শেষ? শুরু বর্ষার বৃষ্টি ? দুইয়ের মধ্যে কী ফারাক? দাপটে এগিয়ে কোনটি? বললেন আবহবিদ























