Pakistan : আফগানিস্তানে মধ্যরাতে পাক বিমান হামলা , রক্তাক্ত মাটি, একের পর এক মৃত্যু, আহত শতাধিক
পাকিস্তানের করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দফতরে শনিবার রাতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। তারই পাল্টা হামলা চালাল পাকিস্তান।

লাহৌর : করাচির সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দফতরে জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের একাধিক সেনা কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল২ দিন আগেই । সেই ঘটনার এক দিনের মধ্যেই আফগানিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক করল পাকিস্তান। ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। হতদের প্রত্যেককেই জঙ্গি বলে দাবি করেছে পাক সরকার। কিন্তু বাস্তবের ছবিটা একদম আলাদা বলেই দাবি আফগানিস্তানের।
পাকিস্তান সরকারের দাবি, এই অভিযানে তারা ২৯ জন ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ বা টিটিপি জঙ্গিকেই মেরেছে। কিন্তু আফগানিস্তান থেকে প্রকাশইত ছবি যদিও অন্য কথাই বলছে। দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান বরাবরের মতোই অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালিয়েছে, এতে ৩৫ জনেরও বেশি নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছোট ছোট শিশুরাও। আফগানিস্তান থেকে ছবি প্রকাশ করে দাবি, নিহতদের মধ্যে ৪-৯ বছর বয়সী শিশু এবং বেশ কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছেন। বহু নিরীহ শিশু ও মহিলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, অথচ পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বিমান হামলায় ২৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছেন।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সে-দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়েছে। তার জবাব দিতেই এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ - এর ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ছবি একেবারেই অন্য কথা বলছে। আফগানিস্তান থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ভারতীয় সময় রাত ১২:৩০ মিনিটে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের পাক্তিকা প্রদেশের গিয়ান এলাকা, পাক্তিয়া প্রদেশের চামকানি এলাকা এবং কুনার প্রদেশের মারওয়ারা এলাকায় সাধারণ মানুষএর বাড়ি ও মসজিদে হামলা চালিয়েছে। প্রথম হামলার পর, যখন স্থানীয় লোকজন ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছেন, ঠিক তখনই দ্বিতীয় হামলা হয়। রাত ১২:৫৫ মিনিটে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ফের নিরস্ত্র নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালায়। ফলে আহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩৫ অতিক্রম করেছে।
এই ঘটনার একদিন আগেই পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দফতরে বন্দুক ও বিস্ফোরক নিয়ে হামলা হয়। ওই হামলায় তিন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয় বলে দাবি। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযানে তিন হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে এবং আহত অবস্থায় আরও একজনকে গ্রেফতার করে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তি আফগান নাগরিক।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাক সরকার। ইসলামাবাদ এই হামলাগুলোর পেছনে মূলত পাকিস্তান তালিবান (TTP) এবং তাদের সহযোগী জঙ্গি সংগঠনগুলোকেই দায়ী করে আসছে। আর পাল্টা হামলার নামে তাদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে নিরীহ আফগান নাগরিকরা। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত ৯ মাসে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ৫৬৫ জন আফগান নাগরিককে হত্যা করেছে।























