Priyanka Gandhi on NEET: ‘মেয়ের মৃত্য়ুতে শোকস্তব্ধ পরিবার, আর আপনারা ধর্মেন্দ্র প্রধানকে জয়ধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন’? লোকসভায় গর্জে উঠলেন প্রিয়ঙ্কা গাঁধী
Priyanka Gandhi Vadra: মঙ্গলবার লোকসভায় বলতে ওঠেন প্রিয়ঙ্কা। সেখানেই কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। ছাত্রদের উপর ছররা গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিলেন, প্রশ্ন তোলেন।

নয়াদিল্লি: NEET আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের উপর লাঠিচার্জ, ছররা গুলি চালানো নিয়ে গর্জে উঠলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী। লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে সদ্য প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। কার নির্দেশে ছাত্রছাত্রীদের উপর ছররা গুলি চালানো হল, প্রশ্ন তুললেন তিনি। সেই সঙ্গে ইস্তফার পর যেভাবে জয়ধ্বনি দিয়ে ধর্মেন্দ্রকে সংসদে সংবাগত জানানো হয়, তারও তীব্র নিন্দা করলেন তিনি। (Priyanka Gandhi Vadra)
মঙ্গলবার লোকসভায় বলতে ওঠেন প্রিয়ঙ্কা। সেখানে তিনি বলেন, "যুবসমাজ নিরাশ। সিস্টেমকে ভরসা করতে পারছেন না। আফশোস যে এত কিছুর পরও প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গীরা পরিস্থিতি ঠাহর করতে পারছেন না। ভাবছেন, PR, ভাষ্য তৈরি করে বৈতরণী পার করবেন। পরশু প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে ইস্তফা দিলেন, আর কাল এখানে, মকরদ্বারে শাসকদলের সাংসদরা জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানালেন তাঁকে। এমন ভাবে স্বাগত জানানো হল যেন সুপারস্টার! বিড়ম্বনার বিষয় হল, তাঁকে যখন মুকুট পরানো হচ্ছিল, সেই সময় মহারাষ্ট্রে প্রশ্নপত্রফাঁসে আত্মঘাতী ছাত্রীর পরিবার শোক পালন করছিলেন।" (Priyanka Gandhi on NEET)
সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিশানা করে প্রিয়ঙ্কা প্রশ্ন তোলেন, "আপনার সরকার দেশের কোটি কোটি পড়ুয়াকে কী বার্তা দিল? কিসের গৌরব আপনাদের? কিসের আত্মাভিমান? কিসের অহঙ্কার? লজ্জার পরিবর্তে যে নির্লজ্জতা দেখালেন, যেভাবে স্লোগান তুলে, জয়ধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানালেন...একদিকে শোক, অন্য দিকে ফুলমালা। আপনাদের কী করে ভরসা করবে মানুষ? নতুন শিক্ষামন্ত্রী এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন শিক্ষামন্ত্রী এমন একজন ব্যক্তি, যিনি অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়াকে সমর্থন করেন, আনন্দিত হন।"
এদিন প্রিয়ঙ্কা জানান, লাঠিচার্জের পর হাসপাতালের ICU-তে ভর্তি এক পড়ুয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন জেপি নাড্ডা-সহ অন্যরাও। কিন্তু তাঁদের দেখে রেগে গিয়েছিলেন মেয়েটির মা। জানান, বড়-বড় নেতারা এসে ভিডিও রেকর্ড করে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই মহিলাকে দেখে তিনি লজ্জিত বোধ করছিলেন বলে জানান প্রিয়ঙ্কা। ওই ছাত্রীর উপর কেন লাঠি চার্জ করা হল, প্রশ্ন তোলেন তিনি। মোদি এবং অমিত শাহকে নিশানা করে বলেন, "আন্দোলনকারী ছাত্রদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ, জলকামান চালানোর প্রয়োজন কী ছিল? মেয়েদের কেন অসম্মান করা হল? কেন লাঠিপেটা করা হল? কেন জামা ছেঁড়া হল? দেশের যুবসমাজের উপর পেলেট গান, AK 47 চালানো হল কেন? ওরা কি সন্ত্রাসবাদী? হ্যাঁ কংগ্রেস প্রশ্ন তুলছে, জবাব চাইছে। কে জবাব দেবে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দেবেন? পেলেট গান চালানোর নির্দেশ কে দিলেন? প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কার নির্দেশে? শুধু কংগ্রেস নয়, গোটা দেশ জানতে চায়। এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আপনাদের দায়বদ্ধতা। এত ভয় কিসের? কণ্ঠরোধ করার অধিকার কে দিল আপনাদের?"
লোকসভায় দাঁড়িয়ে এদিন পড়ুয়াদের হয়ে সুর চড়িয়ে প্রিয়ঙ্কা জানান, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক খামতি রয়েছে। অসম্ভব চাপ সহ্য করতে না পেরে পড়ুয়ারা আত্মঘাতী হন, অবসাদে ডুবে যান। ঘুষ দিতে হয়, ঋণ নিতে হয় উচ্চশিক্ষার জন্য। তার পরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের গ্যারান্টি মেলে না। দেশে বেকারত্ব চরমে পৌঁছেছে দেশে। গত কয়েক বছরে ১৫২ বার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা সামনে এলেও, কারও সাজা হয়নি কেন, প্রশ্ন তোলেন তিনি। শিক্ষাব্যবস্থায় RSS-এর লোকজনকে পদ দেওয়া হচ্ছে, শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ কমানোর অভিযোগও তোলেন।























