Bankura News: রীতি পরিণত হয়েছে রেওয়াজে, মুড়িকে কেন্দ্র করেই নদীর চরে বসে শতবর্ষ প্রাচীন মুড়ি মেলা
District News: রবিবার বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদের চরে মুড়ি মেলায় আনন্দে গা ভাসালেন হাজার হাজার মানুষ।

পূর্ণেন্দু সিংহ, বাঁকুড়া(কেঞ্জাকুড়া): কথিত আছে নারায়ণ একদা নারদ মুনির সঙ্গে বাঁকুড়ার ওপর দিয়ে কোথাও একটা রওনা দিচ্ছিলেন। ভগবান নারায়ণের কানে গিয়েছিল চড়চড় আওয়াজ,তড়িঘড়ি নারায়ণ নারদ মুনিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন 'এটা কীসের আওয়াজ দেবর্ষি?' নারদ মুনি উত্তর দিয়েছিলেন, 'প্রভু বাঁকুড়ার লোকেরা মুড়িতে জল ঢেলেছে।' এই প্রবাদ সত্যি-মিথ্যে, ভুল-ঠিক, সেই নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। তবে হ্যাঁ, মুড়িকে কেন্দ্র করেই বাঁকুড়ায় একটা আস্ত মেলা বসে, যা মুড়ি মেলা নামে খ্যাত।
রেওয়াজ ১০০ বছরেরও অধিক পুরনো। তবে এই মেলাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস কিন্তু এখনও একইরকম আছে। বাঁকুড়া জেলার সুপ্রাচীন এক জনপদ কেঞ্জাকুড়া সেখানেই ভিড় জমালেন বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা পুণ্যার্থী। রবিবার বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদের চরে মুড়ি মেলায় আনন্দে গা ভাসালেন হাজার হাজার মানুষ। নদের চরে বালিতে গর্ত করে জল সংগ্রহ করে তা ছিটিয়ে রসিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মুড়ি খেলেন আট থেকে আশি।
বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় মুড়ি মেলার ইতিহাস অনেক পুরনো। এমন মেলার শুরুটা কীভাবে? কেঞ্জাকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদের পাড়েই রয়েছে সঞ্জীবনী মাতার আশ্রম। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে হরিনাম সংকীর্তন শুরু হয় এখানে। শেষ হয় মাঘের ৪ তারিখ। আগে দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ সংকীর্তন শুনতে হাজির হতেন আশ্রমে। কথিত আছে, সে সময় কেঞ্জাকুড়া ছিল ঘন বনজঙ্গলে ঢাকা। হরিনাম শুনতে শুনতে সন্ধ্যা গড়িয়ে যেত। তবে অন্ধকারে তারপর জঙ্গল পার করার কেউই সাহস দেখাতেন না। পরের দিন সকালে সঙ্গে আনা শুকনো মুড়ি দ্বারকেশ্বরের জলে ভিজিয়ে তা খেয়েই বাড়িতে ফিরতেন তারা।
অতীতের সেই ঘন জঙ্গল বা ওভাবে রাত কাটানোর রেওয়াজ, আজ আর না থাকলেও মুড়ি খাওয়ার ‘রেওয়াজ’ এখন উৎসবের চেহারা নিয়েছে। এখন আর শুধু হরিনাম সংকীর্তন শুনতে আসা মানুষ নন, কেঞ্জাকুড়া-সহ আশপাশের অন্তত কুড়িটি গ্রামের মানুষজন পরিবারের সবাইকে নিয়ে ৪ মাঘ দ্বারকেশ্বরের চরে চলে আসেন। সঙ্গে নেন মুড়ি। শীতের মিঠে রোদ পিঠে লাগিয়ে চলে জমিয়ে মুড়ি খাওয়া। মুড়ির অনুষঙ্গ হিসাবে তারা সঙ্গে আনেন চপ, বেগুনি কিংবা অন্য কোনও তেলেভাজা। থাকে লঙ্কা, ঘুগনি, পেঁয়াজ, শসা, নারকেল, টমেটো, চানাচুর, তিল, নারকেল নাড়ু ইত্যাদি।
এই সঞ্জীবনী মাতা আশ্রম কমিটির মেম্বার তথা এই মুড়ি মেলার কনভেনার পার্থ চন্দ জানান, 'অসংখ্য মানুষ এখানে ভিড় জমান, প্রশাসনের সহায়তায়ও আমরা পাই।' প্রতি বছর একইভাবে এই মেলা চলবে বলে তারা আশাবাদী। এই মুড়ি মেলায় আগত ব্যক্তিরা কেউ এই প্রথম আসলেন, কেউবা আসছেন বছর বছর। তবে এই মেলাকে কেন্দ্র করে সকলের মধ্যেই সমান উচ্ছ্বাসও চোখে পড়ে।






















