Suvendu Adhikari PA Murder : চন্দ্রনাথ খুনে ব্যবহৃত গাড়িতে মেলেনি কোনও ফিঙ্গারপ্রিন্ট! গ্লাভস পরে ছিল আততায়ীরা? কী তথ্য সামনে?
আপ্তসহায়ক হিসাবে কাজের পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবেও নিয়োগ করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের রাস্তায় তাঁকেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় আততায়ী।

সুপারি কিলারের হাতে খুন হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। বায়ুসেনার কাজ থেকে স্বেচ্ছাবসরের পর শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে আসেন তিনি। আপ্তসহায়ক হিসাবে কাজের পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবেও নিয়োগ করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের রাস্তায় তাঁকেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় আততায়ী।
মাত্র ৫০ সেকেন্ডে শেষ অপারেশন
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, পুরো হামলার ঘটনাটি ঘটে মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে। প্রথমে পরিকল্পনামাফিক রাস্তা আটকে চন্দ্রনাথ রথের স্করপিও গাড়ি দাঁড় করানো হয়। তারপর কয়েকজন আততায়ী মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি ঘিরে ধরে পরপর গুলি চালাতে শুরু করে। হামলা শেষ হতেই বাইকে চেপে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, এত কম সময়ে এত নিখুঁতভাবে গোটা অপারেশন চালানো সাধারণ দুষ্কৃতীদের পক্ষে সম্ভব নয়। পুরো হামলার ধরন দেখে পুলিশের অনুমান, আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এবং রেকি চালিয়েই এই হামলা করা হয়েছে।
কালো কাচ ভেদ করেও নির্ভুল নিশানা
তদন্তে উঠে এসেছে, চন্দ্রনাথ রথ যে স্করপিও গাড়িতে ছিলেন, তার কাচ কালো ফিল্মে ঢাকা ছিল। অর্থাৎ বাইরে থেকে গাড়ির ভিতরে কে কোথায় বসে রয়েছে, তা স্পষ্ট বোঝার কথা নয়। কিন্তু তবুও আততায়ীরা ঠিক সেই দিক থেকেই গুলি চালায়, যেদিকে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। তার মধ্যে অন্তত তিনটি গুলি চন্দ্রনাথ রথের বুক ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তদন্তকারীদের দাবি, গুলির আঘাতে তাঁর হৃদপিণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের অনুমান, বন্দুক কাচের খুব কাছ থেকে বা কাচে ঠেকিয়েই গুলি চালানো হয়েছিল। চন্দ্রনাথ খুনে ব্যবহৃত নিসান মাইক্রা গাড়িটিতে মেলেনি কোনও ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্লাভস পরে ছিল আততায়ীরা? সন্দেহ তদন্তকারীদের
টার্গেট ছিলেন শুধুই চন্দ্রনাথ
পুলিশ প্রায় নিশ্চিত, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন চন্দ্রনাথ রথই। কারণ, গুলি চালানো হয়েছে গাড়ির সামনের বাঁদিকের কাচ লক্ষ্য করে। সেই সিটেই বসেছিলেন চন্দ্রনাথ। প্রাক্তন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়-র বক্তব্য, গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়নি। বরং কালো কাচের ভিতর থেকেই নির্দিষ্ট টার্গেটকে নিশানা করে গুলি করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, কালো কাচের ওপার থেকে এত নিখুঁতভাবে গুলি চালানো অত্যন্ত দক্ষ শ্যুটারের পক্ষেই সম্ভব। কারণ, বাইরে থেকে ভিতরের অবস্থান বোঝা কঠিন হলেও আততায়ীরা জানত ঠিক কোন সিটে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ। ড্রাইভার গুলিবিদ্ধ হলেও তিনি টার্গেট ছিলেন না। ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন চালক এবং আরও এক অতিরিক্ত ড্রাইভার। সামনের সিটে বসা চালকও গুলিবিদ্ধ হন। তবে পুলিশ মনে করছে, ড্রাইভার মূল টার্গেট ছিলেন না। তদন্তকারীদের বক্তব্য, চন্দ্রনাথের একেবারে পাশেই বসেছিলেন চালক। ফলে একই লাইনে গুলি যাওয়ার কারণে তাঁর শরীরেও গুলি লাগে। তবে আততায়ীদের লক্ষ্য ছিল একমাত্র চন্দ্রনাথ রথকেই হত্যা করা। গাড়ির মাঝের সিটে বসা অতিরিক্ত ড্রাইভারই পরে গুলিবিদ্ধ চন্দ্রনাথ এবং আহত চালককে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
‘শার্প শ্যুটার’ তত্ত্বে জোর তদন্তকারীদের
পুরো ঘটনার ধরন দেখে তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই হামলায় জড়িত ছিল প্রশিক্ষিত সুপারি কিলারদের দল। পুলিশের ধারণা, আততায়ীদের মধ্যে অন্তত একজন শার্প শ্যুটার ছিল, যার কাজ ছিল নির্দিষ্ট টার্গেটকে নিশ্চিতভাবে খতম করা।
মাত্র ৫০ সেকেন্ডে রাস্তা আটকানো, গাড়ি ঘিরে গুলি চালানো এবং দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া—সবকিছুই ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। আর সেই কারণেই এখন তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, এই পেশাদার খুনিদের ভাড়া করল কারা?
আরও পডুন : 'শুভেন্দু দা বলেছিল .... ' চন্দ্রনাথ চলে যেতেই প্রতিবেশীর মুখে সেই কথা
আরও পড়ুন, 'আমার পাশ দিয়েই ওই খুনি ক্রস করেছিল, তারপর...' শিউরে ওঠা ঘটনা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী
























