Election 2026: ভোট আসলেই খোঁজ পড়ে, তুঙ্গে ব্যস্ততাও! 'সারাবছর খোঁজ নেয় না কোনও দল', আক্ষেপ পতাকা তৈরি করা শ্রমিকদের
Flag Factory Worker: ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের হাতিয়ার দলীয় পতাকা। মিছিল, মিটিং অথবা রাস্তায় টাঙানোর জন্য লাগে দলীয় পতাকা

- নির্বাচনের আগে হাওড়ার উনসানিতে পতাকা তৈরির কারখানায় ব্যস্ততা তুঙ্গে।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা হোয়াটসঅ্যাপে পতাকা তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন।
- কারিগরেরা দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করছেন, ছুটিও কম পাচ্ছেন।
- নির্বাচনের পর কারিগরদের খবর কেউ রাখে না, এই আক্ষেপ রয়ে যায়।
সুনীত হালদার, হাওড়া: নির্বাচন মানে যেমন প্রচারে রং, তেমনই রঙিন রাস্তাও। বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় দেখা যায় রঙিন পতাকা। প্রত্যেক পতাকাতেই রয়েছে দলীয় চিহ্ন। সবটাই ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা। ভোট এলেই দেদার বিকোয় বিভিন্ন দলীয় পতাকা। অর্ডার ও হয় দেদার। কিন্তু প্রদীপের নিচেই কি অন্ধকারটা সবচেয়ে বেশি? প্রচুর পতাকা বিকোলেও, যাঁরা এই পতাকা বিক্রি করেন তাঁদের অবস্থা কেমন?
ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের হাতিয়ার দলীয় পতাকা। মিছিল, মিটিং অথবা রাস্তায় টাঙানোর জন্য লাগে দলীয় পতাকা। হাওড়ার উনসানিতে পতাকা তৈরীর কারখানা গুলিতে সারাবছর তৈরি হয় নানা ধরনের পতাকা। প্রজাতন্ত্র দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসের আগে, জাতীয় পতাকা তৈরির কাজ বেশি হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা থাকে ভোট এলে। এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়। জাতীয় নির্বাচন কমিশন দু দফায় ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতেই এই কারখানা গুলিতে হু হু করে অর্ডার আসতে শুরু করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস এবং আইএসএফ প্রায় সব দলের প্রার্থীরা হোয়াটসঅ্যাপে তাদের পতাকা তৈরীর অর্ডার দিচ্ছেন। এখানকার কর্মীরা সকাল আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কাজ করছেন। মাঝে সামান্য সময় টিফিন টাইম। যেভাবেই হোক সময়ের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে রাজনৈতিক পতাকা। পতাকা তৈরির এক কারিগর শেখ সাইফুল জানালেন, ঈদে মাত্র ২ দিন ছুটি পেয়েছেন। তারপর তাঁকে কাজে যোগ দিতে হয়েছে। এখন দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা কাজ করতে হচ্ছে, যাতে ভোটের আগে পতাকা হাতে পেতে পারে দল। সব দলের পতাকা তৈরি করলেও সবচেয়ে বেশি পতাকা তৈরি করছেন তৃণমূল এবং সিপিএমের।
একটি কারখানার মালিক রাজু হালদার বলেন, এখান থেকে পতাকা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতে পাঠানো হয়। এমনকি কলকাতার বড়বাজারেও পাঠানো হয়। ভোটের সময় চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ১৫-২০ ইঞ্চি এবং ২০_৩০ ইঞ্চি এই দুই সাইজের পতাকার চাহিদা বেশি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তাই কারখানার কর্মীরা ছাড়াও বাইরের কারিগরদের দিয়ে কাজ করানো হয়। পতাকা তৈরীর কারখানায় সব রং মিলেমিশে এক। ভোট আসে ভোট যায়। আর এখানকার কারিগরদের একটাই আক্ষেপ, ভোট মিটলে যে দল ক্ষমতায় আসুক কেউ তাদের খবর নেয় না।






















