বাইরে বিজেপির বিক্ষোভ, রাতেই মহুয়াকে সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশ! স্পিকারকে চিঠি সাংসদের
মহুয়া মৈত্রর অভিযোগ , রাত ১১টা নাগাদ,সার্কিট হাউসের বাইরে হঠাৎ বিক্ষোভ জমায়েত শুরু করে বিজেপি কর্মীদের একাংশ। বিক্ষোভ ও স্লোগান চললেও প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

প্রদ্যোৎ সরকার, নদিয়া : তাঁর থাকার জায়গা ঘিরে রেখেছে লোকজন। রাতবিরেতে জয়শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে ফোন করে সার্কিট হাউস ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে। অথচ পুলিশ কিছুই করছে না। এমনই একরাশ অভিযোগ তুলে সোশ্যাম মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ তুললেন, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, যেন তিনি তাঁর এলাকায় না আসেন। আবারও লম্বা ভিডিও পোস্ট করলেন মহুয়া মৈত্র। আর তাই নিয়েই শুরু হয়েগিয়েছে রাজনৈতিক আকচাআকচি। শুক্রবার, একটি মামলায় হোগলবেড়িয়া থানায় হাজিরা দেন মহুয়া মৈত্র। রাতে নিজেরই লোকসভা কেন্দ্রে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে থাকেন। মহুয়া মৈত্রর অভিযোগ , রাত ১১টা নাগাদ,সার্কিট হাউসের বাইরে হঠাৎ বিক্ষোভ জমায়েত শুরু করে বিজেপি কর্মীদের একাংশ।
কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া ভিডিওতে বলেন, 'গত ১০ মিনিট ধরে আমি বাইরে থেকে আওয়াজ পাচ্ছি ... 'জয় শ্রী রাম জয় শ্রী রাম'। ... এখানে কোনও সিকিওরিটি নেই। ... এখানে একজন পুলিশও নেই। ' নিজেরই লোকসভা কেন্দ্রে, সরকারি সার্কিট হাউসের ভিতরে থেকে এই অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছোয়, প্রশাসনের তরফে সাংসদকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত ছাড়তে বলা হয়। সাংসদ নিজেই ভিডিও বার্তায় বলেন, 'রাত ১০টার সময় আমি একটি ফোন পাই, যেখানে আমাাকে ঘর ছেড়ে যেতে বলা হয়। আমাকে সার্কিট হাউস ছাড়তে বলা হচ্ছে। এটা কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউস।'
মহুয়ার সঙ্গে ঠিক কী কী ঘটেছিল। সাংসদের ভিডিও এনুসারে টাইমলাইন মোটামুটি এইরকম
সন্ধ্যা ৬:১৫ : মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে পৌঁছন।
রাত ৯:৪৭ : নদিয়ার এডিএম ফোন করে মহুয়া মৈত্রকে ঘরটি ছেড়ে দিতে বলেন বলে অভিযোগ সাংসদের।
রাত ১০:৫২: ঘর ছাড়ার বিষয়ে লিখিত নির্দেশ মহুয়া মৈত্রের কাছে পাঠানো হয়।
রাত ১১ টা নাগাদ, সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপির একদল কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়ে মহুয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে তাঁর অভিযোগ।
মহুয়ার অভিযোগ, বিক্ষোভ ও স্লোগান চললেও প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
পাল্টা বিজেপি র তরফে রাজু রক্ষিত প্রশ্ন তোলেন, 'ওঁর ভয়টা কোথায়? উনি কেন আত্মগোপন করে এই সার্কিট হাউসে লুকিয়ে আছেন? সনাতন ধর্মকে যেভাবে উনি অপমান করেছেন, উনি একজন দেশদ্রোহী।'
এ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। X হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, একজন মহিলা সাংসদ, মহুয়া মৈত্র-কে মাঝরাতে একটি সার্কিট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আর আগামীকাল, বিজেপি নেতারা দেশের সামনে দাঁড়িয়ে মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে বক্তব্য রাখবেন। এটা কর্তৃত্ব নয়। এটা নিরাপত্তাহীনতা।
এই বিষয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লেখেছেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর অনুরোধ, তিনি যেন যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেন। নইলে মহিলা সংরক্ষণ বিল এনে সংসদে মহিলার সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নেই।
গোটা ঘটনায় মহুয়া মৈত্রর পাশে দাঁড়িয়েছে বামেরাও। মহম্মদ সেলিম বলেছেন, দল আলাদা হলেও এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সকালে আমি মহুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সব মিলিয়ে, বিক্ষোভ ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়ছেই।
আরও পড়ুন : বজ্র ও বন্দেমাতরম, স্বাধীনতার বহু বছর আগেই ভারতের জাতীয় পতাকার নকশা ভগিনী নিবেদিতার হাতে























