UPSC Success Story: ভোর ৪টেয় উঠে পড়তেন, দিনে ৮ ঘণ্টা চাকরি! রেললাইনের গ্যাংম্যান থেকে IPS, কীভাবে UPSC জয় করলেন প্রহ্লাদ?
মাত্র ২ বিঘা জমির দরিদ্র কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে রেললাইনে গ্যাংম্যানের কাজ, তারপর চাকরির পাশাপাশি UPSC প্রস্তুতি এবং শেষ পর্যন্ত IPS হওয়া

কলকাতা: সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা কখনও কখনও অর্থের অভাব নয়, বরং স্বপ্ন দেখার সাহস হারিয়ে ফেলা। রাজস্থানের প্রহ্লাদ মীণার গল্প যেন তারই প্রমাণ। ছোটবেলায় পরিবারের ছিল মাত্র ২ বিঘা জমি। সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা UPSC পাশ করে IPS হওয়ার স্বপ্ন দেখা ছিল প্রায় অসম্ভবের মতো। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছেন প্রহ্লাদ।
আজ তাঁর পরিচয় একজন IPS অফিসার হিসেবে। কিন্তু এই জায়গায় পৌঁছনোর আগে তাঁকে রেললাইনে ট্র্যাক মেরামতের কাজ করতে হয়েছে, ৮-৯ ঘণ্টার সরকারি চাকরি সামলাতে হয়েছে, ভোর ৪টেয় উঠে পড়াশোনা করতে হয়েছে এবং পরপর তিনবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
মাত্র ২ বিঘা জমি, ছোট গ্রাম আর বড় স্বপ্ন
প্রহ্লাদ মীণার শৈশব কেটেছে রাজস্থানের দৌসা জেলার একটি ছোট গ্রামে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের কাছে ছিল মাত্র ২ বিঘা জমি। সেই জমি থেকে সংসার চালানোও সহজ ছিল না।
ছোট থেকেই তাই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তাঁর। স্কুলে পড়ার পাশাপাশি তাঁকে গবাদি পশু চরাতেও হত। কিন্তু অভাব তাঁর পড়াশোনার ইচ্ছাকে থামাতে পারেনি।
বরং ছোটবেলার সেই সংগ্রামই তাঁকে শিখিয়েছিল—পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, এগিয়ে যেতে হলে নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে।
প্রথম সরকারি চাকরি—রেললাইনে গ্যাংম্যান
পড়াশোনা শেষ করে প্রহ্লাদ রেলের গ্যাংম্যান হিসেবে চাকরি শুরু করেন। তাঁর কাজ ছিল রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত করা। ভুবনেশ্বরে রেলের চাকরি করার সময়ও তাঁর চোখ ছিল আরও বড় স্বপ্নের দিকে। একটি স্থায়ী সরকারি চাকরি পেয়েও তিনি সেখানে থেমে থাকেননি। রেললাইনে কাজ করা সেই তরুণের মনে তখন অন্য স্বপ্ন—UPSC পাশ করে প্রশাসনের উচ্চপদে পৌঁছনো।
কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই—চাকরি ছেড়ে দিয়ে পড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর ছিল না। তাই চাকরি চালিয়েই পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
৮-৯ ঘণ্টার চাকরি, তারপর UPSC প্রস্তুতি
UPSC-এর প্রস্তুতি শুরু করার সময় তাঁর কাছে কোনও বড় কোচিং প্রতিষ্ঠানের সুবিধা ছিল না। ছিল না বিলাসবহুল স্টাডি রুম বা দীর্ঘ সময় পড়ার সুযোগ। পরবর্তী সময়ে দিল্লিতে Assistant Section Officer (ASO) হিসেবে কাজ করার সময় তিনি ৮-৯ ঘণ্টার চাকরির পাশাপাশি UPSC-এর প্রস্তুতি চালিয়ে যান। তাঁর রুটিন ছিল অবাক করে দেওয়ার মতো। ভোর ৪টেয় ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা। অফিসের ব্যস্ততার মধ্যেও লাঞ্চ ব্রেকে পড়াশোনা। আর যাতায়াতের সময় মেট্রোর ভিতরেও খবরের কাগজ পড়ে Current Affairs-এর প্রস্তুতি। অর্থাৎ পড়াশোনার জন্য আলাদা করে অনেকটা সময় না পেলেও দিনের প্রতিটি মিনিটকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতেন তিনি।
কোচিং ছিল না, ছিল না হাল ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা
UPSC-এর মতো কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অনেকেই মনে করেন, ভালো কোচিং ছাড়া সাফল্য পাওয়া কঠিন। প্রহ্লাদ সেই ধারণাকে নিজের জীবন দিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি কোনও কোচিং ছাড়াই নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যান। তবে তাঁর পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। পরপর ৩ বার ব্যর্থতা, শুরু হল মানুষের উপহাস। প্রহ্লাদ প্রথম কয়েকটি প্রচেষ্টায় UPSC-তে সফল হতে পারেননি। পরপর তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর আশপাশের মানুষের কাছ থেকে কটাক্ষ ও উপহাসও শুনতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। ব্যর্থতার পর নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন—ভুলটা কোথায়? তিনি নিজের প্রস্তুতি বিশ্লেষণ করেন এবং বিশেষ করে Essay Writing ও Optional Subject-এর দুর্বলতা চিহ্নিত করেন। পরে হিন্দি সাহিত্যকে Optional হিসেবে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ প্রতিটি ব্যর্থতাকে তিনি শেষ বলে দেখেননি। বরং পরের পরীক্ষার জন্য সেটিকে একটি Feedback Report হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
২০১৭—অবশেষে বদলে গেল জীবন
দীর্ঘ অপেক্ষা, ব্যর্থতা, চাকরি এবং নিরন্তর পড়াশোনার পর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন। ২০১৭ সালে UPSC পরীক্ষায় সফল হন প্রহ্লাদ মীণা এবং IPS অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন। সবচেয়ে আবেগের বিষয়—যে ওড়িশায় তিনি একসময় রেললাইনের গ্যাংম্যান হিসেবে কাজ করেছিলেন, সেখানেই পরবর্তীতে IPS অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একসময় যাঁর হাতে ছিল রেললাইনের সরঞ্জাম, পরবর্তীতে সেই হাতেই এল দেশের পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রহ্লাদ মীণার গল্প তাই শুধু ‘গ্যাংম্যান থেকে IPS’ হওয়ার গল্প নয়। এটি প্রমাণ করে—স্বপ্নের সামনে অর্থের অভাব, চাকরির চাপ কিংবা একের পর এক ব্যর্থতা বাধা হতে পারে, কিন্তু শেষ কথা নয়।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI























