Murshidabad News : মাদক মামলায় শ্বশুরের নাম, 'বাবার উপর দুশমনির জন্য মমতা ব্যানার্জির লোক করছেন', বিস্ফোরক হুমায়ুন-কন্যা
Janata Unnayan Party : মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্য়াস করেছেন। 'জনতা উন্নয়ন পার্টি' নামে নতুন দল তৈরি করেছেন। শাসকদলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সুর চড়াচ্ছেন।

পার্থপ্রতিম ঘোষ, রাজীব চৌধুরী ও আশাবুল হোসেন, লালগোলা : মাদক মামলায় নাম জড়াল হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরের। মাদক মামলায় সোমবার লালগোলায় হুমায়ুন কবীরের আত্মীয়ের স্কুল, বাড়ি, লজ ফ্রিজ করল পুলিশ। NDPS-মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্তর নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও চরমে।
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্য়াস করেছেন। 'জনতা উন্নয়ন পার্টি' নামে নতুন দল তৈরি করেছেন। শাসকদলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সুর চড়াচ্ছেন। ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে কোনদিকে যাবেন হুমায়ুন কবীর ? এই প্রশ্ন যখন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন মাদক মামলায় হুমায়ুন কবীরের মেয়ে নাজমা সুলতানার শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি সিজ করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, মাদক মামলায় বিশেষ আদালত ১০ কোটি ৭৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তি সিজ করার নির্দেশ দিয়েছে।
সোমবার সেই মতোই মুর্শিদাবাদের লালগোলায় আদালতের নোটিস হাতে নিয়ে সম্পত্তি সিজ করতে শুরু করে পুলিশ। পুলিশসূত্রে খবর, ২০২৫ সালে NDPS (মাদক) মামলায় নাম জড়ায় হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলাম ও তাঁর ভাই জিয়ারুল ইসলামের।
যদিও হুমায়ুন কবীর ও তাঁর পরিবার অবশ্য এর নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। হুমায়ুন কবীরের মেয়ে নাজমা সুলতানা বলেন, "বাবার উপর দুশমনি বের করার জন্য এটা মমতা ব্য়ানার্জির লোক করছেন। যেহেতু বাবার উপর কিছু করতে পারছেন না, তাই মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আঘাত করলে তো বাবার আঘাত হবেই।"
অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, "হুমায়ুন কবীরকে সরাসরি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে পারছেন না রাজ্য সরকার বা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এটা দু'মাস আগে থেকেই চক্রান্ত। আমি যখন সাসপেন্ড হই, তার পরের থেকেই। কাজেই আগামীদিনে আমরা...কোর্ট আছে, জুডিসিয়াল আছে...এর মোকাবিলা আমরা করব।"
তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, "মামলা তো পুরনো মামলা। তদন্ত তো গতকাল থেকে হয়নি বা হুমায়ুন কবীর বিদ্রোহ করার পর কিছু তো হয়নি...। আদালত যখন বলেছে তখন আদালতে আপনাদের আইনজীবীরা কী করছিলেন ? আদালত তো দু'পক্ষকে বিচার করে নোটিস দিয়েছে বা অনুমতি দিয়েছে। এর সঙ্গে প্রতিহিংসার কোনও সম্পর্কই নেই।"
মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় যারা এভাবে মাদক ব্য়বসা করছে, তাদের সম্পত্তি এভাবেই বাজেয়াপ্ত করা হবে। তাঁর কথায়, "আমাদের সীমান্তবর্তী যে এলাকাগুলো আছে যেখানে ড্রাগসের ব্যবসা করে অনেকে অনেক আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। সম্পত্তি তৈরি করেছেন। আমরা ড্রাগসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স রাখছি এবং একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের শনাক্ত করে, সেখানে তাঁদের জমি-বাড়ি এবং অন্যান্য যে স্থাবর সম্পত্তি...সমস্ত কিছু সিজ করা হচ্ছে।"
সব মিলিয়ে এই মামলা ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে।























