Kerala Name Change: কেরল 'কেরলম' হলে পশ্চিমবঙ্গ কেন ‘বাংলা’ নয়? জবাব এড়ালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মমতার আক্রমণে বিজেপি বলল…
West Bengal Name Change: মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেরলের নাম পাল্টানোর প্রস্তাবে অনুমোদন মিলেছে।

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেরলের নাম পাল্টে 'কেরলম' করায় সায় দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। নির্বাচনী ডিভিডেন্ডের কথা মাথায় রেখেই কেরলের নাম পরিবর্তনে সায় দেওয়া হল কি না, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু কেরলের ভাষাগত পরিচিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও, পশ্চিমবঙ্গের বেলায় কেন উদাসীন কেন্দ্র, কেন পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টে 'বাংলা' করায় রাজি নয় কেন্দ্র, উঠছে পাল্টা প্রশ্নও। রাজনৈতিক টানাপোড়েনই কি তাহলে আসল কারণ? প্রশ্নের উত্তর এড়ালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। (West Bengal Name Change)
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেরলের নাম পাল্টানোর প্রস্তাবে অনুমোদন মিলেছে। বৈঠক শেষে সেকথা সকলকে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী। সেখানে এবিপি আনন্দের প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ তোলেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একেধাকিবার প্রস্তাব জমা পড়লেও, পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টে 'বাংলা' করায় কেন অনুমোদন দিচ্ছে না নরেন্দ্র মোদি সরকার, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনেও কেন্দ্র পদক্ষেপ করবে কি, জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান অশ্বিনী। জানান, আজ বৈঠকে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে, তিনি সেইটুকুই জানাচ্ছেন মাত্র। তার বাইরে আর কিছু বলতে চান না। কেরলের তরফেও বার বার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস করা হয়, তাতে সংশোধনও ঘটানো হয়। এতদিন পর, বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই প্রস্তাব অনুমোদন পেল, যা রাজ্যের পিনারাই বিজয়নের সরকারকে তো বটেই, বিজেপি-কেও রাজনৈতিক ডিভিডেন্ড দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। (Kerala Name Change)
২০১১ সালে ক্ষমতা দখলের পরই পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টানোর প্রস্তাব পাস করায় মমতা সরকার। সেই সময় ইংরেজিতে হরফে অথচ বাংলা উচ্চারণে 'Paschimbanga' নাম রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বর্ণানুক্রমিক তালিকায় পশ্চিমবঙ্গকে উপরে তুলে আনতেই ওই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর পর ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে সংশোধন ঘটিয়ে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস করানো হয়, যাতে রাজ্যের নাম পাল্টে 'Bangla' করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
গোড়ায় সুপারিশ করা হয় যে, রাজ্যের নাম বাংলায় 'বাংলা', হিন্দিতে 'বঙ্গাল' এবং ইংরেজিতে 'বেঙ্গল' রাখা হোক। মমতার দাবি, কেন্দ্রের দাবি ছিল, বাংলা-হিন্দি এবং ইংরেজিতে একই নাম রাখতে হবে বলে জানায় কেন্দ্র। সেই মর্মে ফের প্রস্তাব পাস করে পাঠানো হয়। কিন্তু তার পরও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে 'বাংলা'র সাদৃশ্যের কথা তুলে ধরা হয়। মমতার যুক্তি, পাকিস্তানেও পঞ্জাব রয়েছে, বাংলাতেও রয়েছে। তাই বাংলাদেশ থাকলে বাংলা কেন থাকতে পারবে না?
এদিন নাম পরিবর্তনে সায় মেলায় কেরলকে অভিনন্দন জানান মমতা। কিন্তু কেরলের নাম পরিবর্তনে সায় দিলেও, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বঞ্চনা করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি যদিও বরাবরই পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের বিরোধী। এর আগে যখন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, সেই সময় তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল রাজ্যের গেরুয়া শিবির। ফলতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনে সায় দেওয়া না বলে অভিযোগ তুলছে তৃণমূল।
এদিন মমতা যখন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন, সেই সময়ও বিজেপি-র তরফে আপত্তিই শোনা যায়। দলের নেতা দেবজিৎ সরকার এবিপি আনন্দে বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ শব্দটি শুধুমাত্র নাম নয়, পশ্চিমবঙ্গ শব্দটি একটি ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গ শুনলেই মানুষ চিন্তা করেন যে তাহলে পূর্ববঙ্গ বলে একটা জিনিস ছিল। তাহলে সেই আধখানা বঙ্গ কোথায় গেল, কী ভাবে গেল? এই মুখ্যমন্ত্রী সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন একটা অজুহাত দিয়ে। B দিয়ে বাংলা বলতে নাকি সুবিধা হবে? তাতে কী? P দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ করুন না! সেটাও তো বাংলা হবে? তামিলনাড়ুর উপরে থাকবে। মমতা নিজেই বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করছেন, মমতা মানেই বঞ্চনা, মমতা মানেই বাংলার সঙ্গে প্রতারণা, বাঙালিদের সঙ্গে অত্যাচারের ইতিহাস গত ১৫ বছরে কম দেখেনি পশ্চিমবঙ্গ।"
কেরলের নাম বদলের সঙ্গে বিজেপি-সিপিএম আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন মমতা। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন CPM-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, "মুখ্যমন্ত্রী হঠাৎ নাচতে শুরু করলেন যে বিজেপি-সিপিএম...এভাবে হয় না। উনি বাংলায় কী নাম রাখতে চেয়েছেন? কবে কী বলেছেন? একবার পশ্চিমবঙ্গ, একবার বাংলা। এক-এক সময় এক-এক কথা বলেছেন। '১৬ সালে বিধানসভায় কত বার, কত রকম কথা বলেছেন! নিজের কোনও ঠিকঠিকানা নেই...সব কিছু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে হয় নাকি?"
প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী আবার বলেন, "ভারতের বিভিন্ন জায়গার নাম পরিবর্তন হয়েছে। তেরল কেন, বম্বে, চেন্নাই, কত কী হয়েছে। নাম পরিবর্তন একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রস্তাব দিয়েছিল। কেন হয়নি জানি না। তবে আমার বাংলার জায়গায় পশ্চিমবঙ্গ বলতে খারাপ লাগে না। ওদিকটাকে, বাংলাদেশকে পূর্ববঙ্গ বলতে অভ্যস্ত আমরা। আমাদের দিকটাকে পশ্চিমবঙ্গ বলতে আমার বা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আপত্তি রয়েছে বলে আমার জানা নেই। পশ্চিমবঙ্গের আরও যে সব সমস্যা রয়েছে, রাজ্যের নেত্রী এবং দিল্লির নেতা সেগুলো নিয়ে ভাবুন। পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি হোক, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-রুটি-রোজগার নিয়ে ভাবুন মুখ্যমন্ত্রী। নামের পরিবর্তে কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা অর্জন করুক পশ্চিমবঙ্গ।" তবে মলয়ালি ভাষার পরিচিতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেরলকে যদি 'কেরলম' করতে সমস্যা না থাকে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গকে 'বাংলা' করতে সমস্যা কোথায়, প্রশ্ন উঠছেই।























