USAID Row: ৬৫০০ কোটি অনুদান, কিন্তু ভোটের জন্য নয়, জানাল কেন্দ্র, ‘বন্ধু মোদির কাছে টাকা গিয়েছে’, এখনও বলছেন ট্রাম্প
Narendra Modi: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফে ২০২৩-’২৪ সালের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।

নয়াদিল্লি: ভারতকে অনুদান দেওয়া প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ওই মন্তব্যের আঁচ এসে পড়েছে দেশীয় রাজনীতিতেও। সেই আবহেই এবার আমেরিকার কাছ থেকে পাওয়া প্রাপ্ত অনুদানের হিসেব প্রকাশ করল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির সরকার। মোট সাতটি প্রকল্পে আমেরিকার অনুদান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। (USAID Row)
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফে ২০২৩-’২৪ সালের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে আমেরিকার কাছ থেকে অনুদান বাবদ প্রাপ্ত ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের উল্লেখ রয়েছে, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সেই টাকায় দেশে সাতটি প্রকল্প চলছে এই মুহূর্তে। ভারত এবং আমেরিকা সরকারের পারস্পরিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। (Narendra Modi)
কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে ভারতকে ৮২৫ কোটি টাকা দিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু বুথে বুথে ভোটারের সংখ্যা বাড়াতে কোনও টাকা দেওয়া হয়নি ওই বছর। বরং কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানীয় জল, পরিচ্ছন্নতা, পুনর্নবীকরণ শক্তি, স্বাস্থ্য এবং বিপর্যয় মোকাবিলা খাতেই অনুদান দেওয়া হয়।
President Trump again clearly states that $21 Million dollar to India for voter turnout.
— Squint Neon (@TheSquind) February 22, 2025
pic.twitter.com/TNZL0M9zhX
কেন্দ্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকার অনুদানের টাকা অরণ্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ, উদ্ভাবন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। উন্নয়নের স্বার্থে ১৯৫১ সালে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সূচনা। মূলত USAID-এর মাধ্যমেই অনুদান আসত। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫৫৫টি প্রকল্পের জন্য ভারতকে ১৭ বিলিয়ন ডলার আর্থিক অনুদান দিয়েছে আমেরিকা, যা ভারতীয় মুদ্রায় ১ লক্ষ ৪৭ হাজার কোটি টাকা।
আমেরিকার মসনদে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পরই বিদেশি অনুদানে কাটছাঁট শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধনকুবের ইলন মাস্ককে সেই দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মাস্ক নেতৃত্বাধীন Department of Government Efficiency জানায়, ভারতের নির্বাচনে ভোটারদের বুথমুখী করে তুলতে ১৮২ কোটি টাকা অনুদান দেয় আমেরিকা।
ট্রাম্পের সেই দাবি নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হতে সময় লাগেনি। নিজেদের গা বাঁচিয়ে, সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করতে শুরু করেন বিজেপি নেতৃত্ব। দেশের নির্বাচনে বহিরাগত হস্তক্ষেপ নিয়ে সরাসরি কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন তাঁরা। পাল্টা কংগ্রেস কটাক্ষ করে বিজেপি-কে। আমেরিকা ভারতকে নিয়ে যে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে, বিজেপি সেই আগুনে ঘি ঢালছে বলে মন্তব্য করে তারা। আমেরিকা ভারতকে নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়াতেই পারে, কিন্তু বিজেপি কেন তাতে শামিল হচ্ছে, কেন ভারতকে অপমান করছে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ।
আর সেই আবহেই রিপোর্ট প্রকাশ করে কেন্দ্র জানাল, ভোটারদের বুথমুখী করতে কোনও টাকা দেয়নি আমেরিকা। জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতেই শুধুমাত্র অনুদান মিলেছে। তবে এখনও পর্যন্ত নিজের দাবিতে অনড় ট্রাম্প। শুক্রবারও একটি বৈঠকে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে ২১ মিলিয়ন ডলার গিয়েছে ভারতের ভোটারদের বুথমুখী করার জন্য। ভারতের ভোটারদের বুথমুখী করতে ২১ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছি আমরা। আমাদের নিজেদের কী হবে? আমি চাই, আমাদের দেশের ভোটাররাও বুথমুখী হোন।" বাংলাদেশেও কোটি কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন ট্রাম্প। তাই বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করা নিয়ে আমেরিকার ভূমিকা প্রশ্নের মুখে।
ট্রেন্ডিং
সেরা শিরোনাম
