Saif Ali Khan: হাউজ-পার্টিতে কাজ করার অছিলাতেই কি শরিফুল প্রথম ঢুকেছিল সেফ-করিনার বাড়িতে?
Saif Ali Khan Attack: তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের বাড়ি বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলার নলছিটি এলাকায়। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্ম-শংসাপত্র মিলেছে

সূরয ওঝা, কলকাতা: অভিনেতা সেফ আলি খানের ওপর হামলাকাণ্ডেও বাংলাদেশ-যোগ? মুম্বই পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত মহম্মদ শরিফুল ইসলাম বাংলাদেশের নাগরিক। শিলিগুড়ি দিয়ে চোরাপথে ভারতে অনুপ্রবেশ করে সে। ধৃতের কাছে ভারতে আসার কোনও বৈধ নথি পাওয়া যায়নি, বরং মিলেছে বাংলাদেশের বার্থ সার্টিফিকেট, দাবি পুলিশ সূত্রে।
মুম্বইয়ে বাড়িতে ঢুকে সেফ আলি খানের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাতেও এবার সামনে এল বাংলাদেশ যোগ! বুধবার গভীর রাতে প্রথমে পশ্চিম বান্দ্রায় বলিউডের প্রথম সারির তারকা দম্পতির বাড়িতে চুরির চেষ্টা! এবং সেখানে বাধা পেয়ে সেফ আলি খানের উপর ধারালো অস্ত্রের হামলার ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য রক্ষা পান অভিনেতা। এবার সেই ঘটনায় মহম্মদ শরিফুল ইসলাম শাহজাদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল মুম্বই পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের বাড়ি বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলার নলছিটি এলাকায়। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্ম-শংসাপত্র মিলেছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার প্রয়োজনীয় কোনও নথি এখনও হাতে পায়নি পুলিশ। মুম্বই পুলিশের ডিসিপি দীক্ষিত গেদাম বলছেন, 'প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, যে, অভিযুক্ত বাংলাদেশি। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর, নাম বদলে ফেলেছিল। ১৫ দিন আগে মুম্বই আসে অভিযুক্ত। কিছুদিন মুম্বইয়ে ছিল। একটি হাউস কিপিং এজেন্সিতে কাজ করত।'
বাংলাদেশের পাশাপাশি ধৃত শরিফুল ইসলামের পশ্চিমবঙ্গ যোগও পেয়েছে মুম্বই পুলিশ। সূত্রে খবর, বাংলাদেশ থেকে চিকেনস নেক অর্থাৎ শিলিগুড়ি করিডর হয়ে ৭-৮ মাস আগে ভারতে ঢোকে শরিফুল। ৫-৬ মাস আগে, বাংলা থেকে সোজা চলে যায় মহারাষ্ট্রে। ধৃত মহম্মদ শরিফুল ইসলাম এজেন্টের মারফৎ অনুপ্রবেশ করে। তারপর দ্বিতীয় এজেন্ট মারফৎ পৌঁছে গেছিল মহারাষ্ট্রে। এতে ইন্টারন্য়াশনার কনস্পিরেন্সি ছিল বলে অনুমান।
মুম্বই পুলিশ মনে করছে, সেফ আলি খানের বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্য নিয়েই গেছিল শরিফুল। কিন্তু সেফ আলি খানের বাড়িতেই কেন? কয়েকদিন আগে সেফ-করিনার বাড়িতে একটি পার্টি হয়। তাতে যে সংস্থা ইভেন্ট ম্য়ানেজেমেন্টের দায়িত্বে ছিল, সেই সংস্থার হয়ে বাংলাদেশের এই নাগরিক কাজ করত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবার রাতের এই ঘটনায় সেফ আলি খানের বাড়িতে ঢোকা ও বেরনোর সময় সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে অভিযুক্ত। এরপর কখনও বান্দ্রা এলাকায় তাকে ঘোরাফেরা করতে গেছে, কখনও আবার মোবাইলের দোকানে দেখা গেছে তাকে।
সিসিটিভিতে একাধিকবার ধরা পড়লেও, বাস্তবে পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল এই অভিযুক্ত। একাধিকবার নাম ও পোশাক বদল করে পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছিল।
যাতে নাগাল না মেলে তার জন্য বন্ধ করে রেখেছিল নিজের মোবাইল ফোনও। কিন্তু এতকিছুর পরেও রক্ষা হল না। ঠাণের একটি শ্রমিক বস্তিতে থেকে তাকে গ্রেফতার করল মুম্বই পুলিশ। এদিন বান্দ্রা আদালতে তোলা হলে ধৃতের আইনজীবী দাবি করেন, শরিফুল ইসলাম যে বাংলাদেশের নাগরিক তার কোনও প্রমাণ পুলিশ দিতে পারেনি। ধৃতকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
ট্রেন্ডিং
সেরা শিরোনাম
