এক্সপ্লোর

Sabyasachi Chakraborty Interview: ইচ্ছা ছিল টেকনিশিয়ান হওয়ার, অভিনয় শুরু করে চেয়েছিলেন দর্শকরা অপছন্দ করুক, জন্মদিনে গল্পে-আড্ডায় সব্যসাচী চক্রবর্তী

ইচ্ছা ছিল টেকনিশিয়ান হওয়ার। পছন্দের কাজ ছিল সেট তৈরি করা। অভিনয়ে সুযোগ পেয়ে মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন, দর্শকরা যেন তাঁকে বাতিল করেন। তারপর একটা সময় নিজেই সন্দীপ রায়ের কাছে গিয়ে আবেদন করেছিলেন ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় করার জন্য। রুপোলি পর্দা আপন করেছে তাঁকে, আর তিনি? জঙ্গল ও বন্যপ্রাণীকে। তিনি সব্যসাচী চক্রবর্তী। রেডিও থেকে নাটকের মঞ্চ, জঙ্গল থেকে ব্যক্তিজীবন, জন্মদিনে এবিপি আনন্দর সঙ্গে গল্পে মশগুল বেণু।

কলকাতা: ইচ্ছা ছিল টেকনিশিয়ান হওয়ার। পছন্দের কাজ ছিল সেট তৈরি করা। অভিনয়ে সুযোগ পেয়ে মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন, দর্শকরা যেন তাঁকে বাতিল করেন। তারপর একটা সময় নিজেই সন্দীপ রায়ের কাছে গিয়ে আবেদন করেছিলেন ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় করার জন্য। রুপোলি পর্দা আপন করেছে তাঁকে, আর তিনি? জঙ্গল ও বন্যপ্রাণীকে। তিনি সব্যসাচী চক্রবর্তী। রেডিও থেকে নাটকের মঞ্চ, জঙ্গল থেকে ব্যক্তিজীবন, জন্মদিনে এবিপি আনন্দর সঙ্গে গল্পে মশগুল বেণু। দেখুন সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার https://bengali.abplive.com/videos/entertainment/exclusive-interview-on-his-64th-birthday-actor-sabyasachi-chakraborty-opens-up-to-abp-live-about-his-life-work-upcoming-movie-and-family-735929
প্রশ্ন:  প্রথমেই..শুভ জন্মদিন বেণুদা! কেমন করে কাটাচ্ছেন আজকের বিশেষ দিনটা? সব্যসাচী চক্রবর্তী : বিশেষ কিছু পরিকল্পনা নেই। সন্ধেবেলা একটা শ্যুটিং রয়েছে। আর বাড়িতে দুপুরবেলা একটু খাওয়াদাওয়া হয়েছে। ২ ছেলে, পুত্রবধূ, নাতনি সবাই এসেছে। বউ পায়েস রান্না করেছে। প্রশ্ন: প্রত্যেক বছর এই দিনটা কীভাবে কাটান? সব্যসাচী: একেক সময় একেক রকমভাবে কাটে। এক বছর শ্যুটিং-এ ছিলাম সন্দীপ রায়ের সঙ্গে। ওনারও একই দিনে জন্মদিন। সেদিন শ্যুটিং-এর মধ্যেই কেক কাটা হল। আবার কখনও হয়ত বেড়াতে গিয়েছি। তার মধ্যেই জন্মদিন পড়ল। তখন কেক পাওয়া গেলে ভালো, না হলে ওই দই, পায়েস। তবে খুব একটা বাড়াবাড়ি কিছু হয় না। জন্মদিন পালন করার বয়স এটা নয়। এই বুড়ো বয়সে জন্মদিন হওয়া মানেই তো শেষের দিকে আরও এক পা এগিয়ে দিচ্ছি। প্রশ্ন: জন্মদিনের কোন স্মৃতি সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে? সব্যসাচী: সবচেয়ে মনে রাখার মতো তো ছোটবেলার জন্মদিনগুলোই। ছোটবেলায় এই দিনটি বেশ বড় করে পালন হতো। আমার আর আমার বোনের জন্মদিন একই মাসে। সেই জন্য মাঝামাঝি একটা দিন বেছে নেওয়া হতো। সেদিন মা রঙিন কাগজ-বেলুন টাঙিয়ে, খাবার বানিয়ে বলতেন, বন্ধুদের ডাকো। পাসিং দ্য পার্সেল, মিউজিক্যাল চেয়ার সব খেলা হতো। সেইসব দিনের কথা মনে পড়লে খুব আনন্দ হয়। প্রশ্ন : অভিনয়কে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা কী প্রথম থেকেই ছিল? সব্যসাচী: ১৯৭৫ সালে নাটকের মঞ্চে আমার অভিনয়ে হাতেখড়ি। তারপর থেকে নিয়মিত অভিনয় করে গিয়েছি। ১৯৮৫ সালে প্রথম টেলিভিশনে অভিনয় করি। শুরুতে নাটক আর টেলিভিশনের অভিনয়ের তফাৎ বুঝতে একটু সময় লেগেছিল। আমি ভেবেছিলাম আমি টেকনিশিয়ান হব। নাটক করার সময় আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ ছিল সেট, লাইট আর শব্দের কাজ করা। এই ব্যাকস্টেজের কাজগুলো আমার খুব ভালো লাগত। তারপর আমার পিসি আর পিসেমশাইয়ের তৈরি করা কোম্পানিতে যোগ দিলাম। আমায় তখন বলা হল, অভিনয় করতে হবে। বললাম, আমি ক্যামেরার পিছনেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। অভিনয় পারব না। ওঁরা বললেন, তোমার থেকে ভালো টেকনিশিয়ান রয়েছে। কিন্তু অভিনয়ে তোমাকে বেশি দরকার। আমার অভিনয় করার খুব একটা ইচ্ছা ছিল না। মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম দর্শক আমায় বাতিল করে দিলে বেঁচে যাই। কিন্তু তা হল না। ফলে আমি আটকে গেলাম। অভিনেতাই রয়ে গেলাম। প্রশ্ন: প্রথমে অভিনয়ের ইচ্ছা ছিল না। অথচ, একাধিকবার বলেছেন, ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় করা আপনার স্বপ্ন ছিল। কেন মনে হয়েছিল আপনি পারবেন এই চরিত্রটা? সব্যসাচী: ছোটবেলায় বাবা আমায় ফেলুদার বই কিনে দিয়ে বলেছিলেন, এগুলো পড়ো, ভালো লাগবে। পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছিল, আরে, ফেলুদা তো একদম আমার বাবার মতো। ফেলুদার সেই পড়াশোনা, ব্যক্তিত্ব, মানসিক জোর.. আমার বাবাও খানিকটা সেইরকমই ছিলেন। সব ছেলের কাছেই তাঁর বাবা আদর্শ হন। ফেলুদার যে ক'টা বই বেরিয়েছিল সমস্ত পড়তাম। আমি ফেলুদার ফ্যান হয়ে গেলাম। চরিত্রটাকে কপিও করতাম অনেক সময়। যখন অভিনয়ে এলাম তখন আমার সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ দেখা হয়ে গিয়েছে। ভাবলাম, একবার সাহস করে গিয়ে বললে হয়। সত্যজিৎ রায়ের কাছে গেলাম। উনি নাকচ করলেন। বললেন, ' সন্তোষ দত্ত এখন আর বেঁচে নেই। উনি ছাড়া ফেলুদার গল্প হয় না। তাই আমি আর ফেলুদা করব না। তবে যদি তোমার খুব ইচ্ছা হয় সন্দীপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো।' তারপর সন্দীপ রায়কে বলেছিলাম। মনে হয়েছিল, উনি যদি একবার আমায় সুযোগ দেন, খুব একটা খারাপ অভিনয় করব না। বাক্স রহস্যের পর দর্শক আমায় পছন্দ করল। আর তারপর আমি ফেলুদা হয়ে গেলাম। প্রশ্ন: বর্তমান নায়কদের মধ্যে এখন অনেকেই ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় করছেন। কিন্তু আপনি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এই ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি আসছে 'ফেলুদা ফেরত'। টোটা রায়চৌধুরীকে ফেলুদার ভূমিকায় দেখা যাবে। নতুন ফেলুদা নিয়ে আপনার কী কী প্রত্যাশা রয়েছে? সব্যসাচী: সৃজিত মুখোপাধ্যায় খুব ভাল পরিচালক। আমার ধারণা ছবিটা ভালই হবে। তবে আসল ফেলুদার ফর্ম্যাটের থেকে একটু সরে গিয়ে বোধহয় কাজটা হচ্ছে। আধুনিকভাবে ফেলুদা তৈরি হচ্ছে। প্রত্যেক পরিচালক তাঁর নিজের চিন্তাভাবনা দিয়েই কাজ করেন। নতুন ফেলুদা সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ভাবনায় হচ্ছে। টোটা রায়চৌধুরীকে ফেলুদার চরিত্রে খুব ভালো মানাবে। সে নিজেই আমার সঙ্গে ফেলুদার ছবিতে অভিনয় করেছে। আমার ওর প্রতি আস্থা রয়েছে। ঠিক যেমন আস্থা রয়েছে সৃজিতের পরিচালনার ওপর। তবে যে গানটা ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা ঠিক ফেলুদার ছবির সঙ্গে যায় না। ফেলুদা যদিও একটু আধটু রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে পারে, তবে ফেলুদার ছবির মধ্যে একটা গান থাকবে, আমার মনে হয় সেটা প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। প্রশ্ন: কেরিয়ারে নিজেকে নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছেন পুলিশ ও গোয়েন্দার চরিত্রে। এর পিছনে কোন এক্স ফ্যাক্টরটা কাজ করেছে বলে আপনার মনে হয়? সব্যসাচী: মনে হয়, আমার মত এমন রুক্ষ চেহারার একজন লোক পুলিশ বা গোয়েন্দা হলেই বেশি ভালো লাগে। প্রেমিক চরিত্রে আমি খুব একটা মানানসই নই। আমি একটু বেশিই লম্বা। গলার স্বরটা ভারী। তাই বোধহয় সবাই ভাবে, আমি একটু ধমক দিলে দুষ্টু লোকরা ভয় পেয়ে যাবে (হাসি)। এই বিষয়গুলোই বোধহয় সবার ভালো লেগেছে। প্রশ্ন:  নতুন ছবি 'অভিযাত্রিক' এর প্রসঙ্গে আসি। অপুর নস্টালজিয়াকে ছুঁয়ে থাকা একটা সিনেমা। ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়েছে ছবির ট্রেলার। আপনার কী প্রত্যাশা রয়েছে? সব্যসাচী: 'অভিযাত্রিক' নিয়ে আমার খুব উচ্চাশা রয়েছে। এই ছবির সঙ্গে অনেক গুণী মানুষ জড়িয়ে রয়েছেন। তবে এই গল্পের সঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের অপু ট্রিলজির কোনও সম্পর্ক নেই। কাজলকে নিয়ে অপু বেরিয়ে পড়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে। সেখানেই শেষ করেছিলেন সত্যজিৎ। তারপর কী হল, সেই নিয়েই তৈরি হয়েছে এই ছবি।  সিনেমায় অপুর সঙ্গে দেখা হবে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপর চরিত্র শঙ্করের। অপুর ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছা, মানুষ চেনার ইচ্ছাকে আবার জাগিয়ে তুলবে শঙ্কর। এছাড়াও ছবিতে রয়েছে অপুর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন। প্রশ্ন: ছেলের সঙ্গে বড়পর্দায় প্রথমবার স্ক্রিন শেয়ার করছেন। সেই অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? সব্যসাচী: খুবই ভালো অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয় অর্জুন যথেষ্ট ভালো কাজ করেছে। পরিচালকও খুশি। তবে শেষ বিচার অবশ্যই দর্শকদের। প্রশ্ন: সিনেমাহল খোলা নিয়ে এখনও কোনও নির্দেশিকা নেই। তবে কি 'অভিযাত্রিক' আমরা ওটিটি প্ল্য়াটফর্মে দেখতে চলেছি? সব্যসাচী: এই পরিকল্পনা প্রযোজক বা পরিচালক করবেন। তবে আমার ধারণা অভিযাত্রিকের মত ছবি বড় পর্দাতেই দেখা উচিত। এই ছবির মধ্যে অনেক দৃশ্যকাব্য রয়েছে। আমার বিশ্বাস বড়পর্দা ছাড়া সেই আমেজ আসবে না। প্রশ্ন: আপনার স্ত্রী, দুই পুত্র এমনকি পুত্রবধূও অভিনয় জগতে রয়েছেন। বাড়িতে কখনও এটা নিয়ে আলোচনা হয়? সব্যসাচী: আমার বাবা, মা, বোন, আমি সবাই নাটক করতাম। আমার গোটা পরিবারটাই নাটকের পরিবার। অভিনয়টা আমাদের মনের খোরাক। কিন্তু আমি ভাবিনি, আমার স্ত্রী অভিনেত্রী হবেন। বিয়ের পর আমার পিসি ওকে বলেছিলেন, বাড়িতে বসে থেকো না, বোর হয়ে যাবে। অভিনয় করো। তারপর ও নাটক করল, সিরিয়াল করল। এখন তো ফুলটাইম অভিনেত্রী। যথেষ্ট ভালো কাজ করেছে, প্রশংসাও পেয়েছে। ছেলেদের কখনও আমরা অভিনয় করার কথা বলিনি। এর জন্য আসলে দায়ী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। যখন প্রসেনজিৎ আর ঋতুপর্ণ ঘোষ মিলে 'গানের ওপারে' করে, তখন আমাদের ২ ছেলেকে ধরে নিয়ে চলে গেল। আমি বারণ করেছিলাম। বলেছিলাম ওরা পারবে না। কিন্তু ছেলেরা টেলিভিশনে এমনই এক্সপোজার পেল যে ওরাও অভিনয়কেই বেছে নিল। প্রশ্ন: আপনি দীর্ঘ একটা সময় ধরে টলিউড ও বলিউডে অভিনয় করেছেন। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর স্বজনপোষণ নিয়ে অনেক চর্চা হয়েছে। এই বিষয়ে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কী? সব্য়সাচী: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুতে স্বজনপোষণের বিষয়টিকে উগ্রভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা কিছু ক্ষেত্রে হয়ত বাড়াবাড়ি হচ্ছে। স্বজনপোষণ সমস্ত পেশায় রয়েছে। আমার বাড়িতে যখন নাটক করছি, তখন বাবা সবাইকে বাদ দিয়ে আমায় রোল দিলেন। এটা তো নেপোটিজম। যে ফেভার করছে সে একজন উঁচুদরের শিল্পী , বিশেষজ্ঞ বা কারিগর। তিনি জানেন কাকে দায়িত্ব দিলে কাজটা হবে। কিন্তু যে স্বজনপোষণের পরে কাজ পেয়েও নিজেকে প্রমাণ করতে পারবে না, সে টিকে থাকবে না। ভালো কাজ করতেই হবে। তবে আবার সবসময় নেপোটিজমের স্বপক্ষে কথা বলাটাও ঠিক নয়। প্রশ্ন: আপনার পরিচিতি কি আপনার দুই ছেলেকে কাজ পেতে সুবিধা করেছে বলে মনে হয়? সব্যসাচী: এখানে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নেপোটিজিম করেছেন। ওর সঙ্গে আমার অনেকদিনের আলাপ। ছোটবেলা থেকে অর্জুন-গৌরবকে দেখেছে ও। আমি বলেছিলাম, ওদের কোনও অভিজ্ঞতাই নেই। ওদের নামিও না। প্রসেনজিৎ বলেছিল, আমি তোমার কথা মানি না! আমি জানি ওরা ভালো পারবে। এখন তো প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাদের ফেভার করছে না। এখন প্রসেনজিতের বেশিরভাগ ছবিতেই ওরা নেই। কিন্তু যখন প্রয়োজন, তখন নিয়েছিল। তারপর তো নিজের চেষ্টায় জায়গা করে নিতে হবে। প্রশ্ন: রুপোলি পর্দার পাশাপাশি আপনি রেডিওতেও ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। সেখানে আপনার মতো জনপ্রিয়তা আর কারও নেই। এই বিষয়টা নিয়ে কী বলবেন? সব্যসাচী: আমি আমার এই দাঁড়কাকের মতো গলা দিয়ে হয়তো ফেলুদার কিছু জিনিস ভালোই রপ্ত করেছি। (হাসি) সেটা রেডিওতে শুনতে ভালোই লাগে।  আর যেহেতু আমি টেলিভিশনে আর সিনেমায় ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেছি দর্শকদের ভিস্যুয়ালাইজ করতে সুবিধা হয়। তবে এই জনপ্রিয়তা দর্শকের গুণে বেশি, আমার গুণে কম। প্রশ্ন: রাস্তায় কোনওদিন কোনও ভক্ত 'ফেলুদা' বলে ডেকে ছুটে এসেছে? সব্যসাচী: অনেকবার! প্রথমদিকে লোকে তেরো পার্বণের গোরা বলত। ফেলুদা জনপ্রিয় হবার পর আমার নাম বদলে ফেলুদাই হয়ে গেল। আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। সেখানে ট্রাফিক লাইটে যে শিশুরা ভিক্ষা করে তারা আমায় দেখে ফেলুদা বলে ছুটে এসেছিল। সেটা আমার কাছে বিরাট পাওয়া। প্রশ্ন: একজন অভিনেতার পাশাপাশি আপনি ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফারও। বন্যপ্রাণীর প্রতি আপনার প্রেমের জন্ম কোথা থেকে? সব্যসাচী: আমায় ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার বললে আসল ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফারদের অপমান করা হয়। আসল ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফির জন্য অনেক সময় দিতে হয়, পরিশ্রম করতে হয়। অনেক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আমার অত ক্ষমতা নেই। আমি একজন ট্যুরিস্ট উইথ আ ক্য়ামেরা। আর বন্যপ্রাণের প্রতি প্রেমটা তৈরি হয়েছে ছোটবেলা থেকেই। আমার জ্যেঠুরা শিকার করতেন, জঙ্গলে যেতেন। আমিও বাবার সঙ্গে বা তাঁদের সঙ্গে যেতাম। এখন মনে হয়, বছরের অর্ধেকটা যদি আমি জঙ্গলে থাকি, তবে সবচেয়ে ভালো থাকব! শহরের এত আওয়াজ আমার ভালো লাগে না। প্রশ্ন: হঠাৎ কোনও ম্যাজিকে যদি এই জন্মদিনে বয়সটা কমে ১৮ বছর হয়ে যায়, কী করবেন? সব্যসাচী: প্রথমতসবচেয়ে বেশি ইচ্ছা করবে ক্রিকেট খেলতে। বাবা আমায় ক্রিকেটটা প্রফেশন হিসাবে নিতে দেননি। ১৮ বছর বয়স ফিরে পেলে আমি চাই বাবা এসে বলুন, তুমি আবার ক্রিকেটে মন দাও। দ্বিতীয়ত, ওই বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে যে সমস্ত জঙ্গলে গিয়েছি সেখানে আবার যাব। আমার ১৮ বছর বয়সে জঙ্গলগুলো যা ভাল ছিল এখন তার কিচ্ছু নেই। আমি পুরনো সেই জঙ্গলে ফিরে বন্যপ্রাণীকে আরও বেশি করে ভালবাসব, আরও ভাল ছবি তুলব। আর তৃতীয়ত, ওই বয়সে আমি শরীরচর্চা করতাম। এখন আমার ২টো পা-ই ভাঙা। ১৮ বছরে আমার হাড়গোড় ভাঙেনি, ওই বয়সে ফিরতে পারলে একটু ট্রেকিং করতাম।

এবিপি লাইভ বাংলায় অ্যাসোসিয়েট প্রোডিউসার হিসেবে বর্তমানে কর্মরত। এবিপি লাইভ বাংলায় কাজের অভিজ্ঞতা ৯ বছর। ২০১৮ সাল থেকে পেশাদারি জগতে। বিশ্বভারতী থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। সমসাময়িক সমস্ত বিষয়েই আগ্রহ। প্রতিবেদন, সম্পাদনা থেকে শুরু করে অডিও-ভিস্যুয়াল, সোশ্যাল মিডিয়ার যে কোনও প্ল্যাটফর্মে সাবলীল। বিনোদন দুনিয়ার যাবতীয় খবর নিঁখুতভাবে পাঠক-দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াতেই তৃপ্তি। যোগাযোগ - torshab@abpnetwork.com

Read More
আরও পড়ুন
Sponsored Links by Taboola

সেরা শিরোনাম

Nora Fatehi: ‘সরকে চুনর তেরে’-র জন্য আরও সমস্যায় নোরা ফতেহি! জারি হল ফতোয়া!
 ‘সরকে চুনর তেরে’-র জন্য আরও সমস্যায় নোরা ফতেহি! জারি হল ফতোয়া!
Mamta Kulkarni: কোথায় সেই গেরুয়া বসন, কপালের তিলক? দেড় লাখি রোদচশমা পরে গোয়ায় ছুটি কাটাচ্ছেন মমতা কুলকার্নি!
কোথায় সেই গেরুয়া বসন, কপালের তিলক? দেড় লাখি রোদচশমা পরে গোয়ায় ছুটি কাটাচ্ছেন মমতা কুলকার্নি!
Anupam Kher: হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্টের ভুরি ভুরি অফার, পেতেন টাকাও! তবুও চুল দিয়ে মাথা ঢাকতে নারাজ অনুপম খের!
হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্টের ভুরি ভুরি অফার, পেতেন টাকাও! তবুও চুল দিয়ে মাথা ঢাকতে নারাজ অনুপম খের!
Panchayat Season 5: আলোচনায় 'পঞ্চায়েত সিজন ৫', কবে মুক্তি পাচ্ছে নতুন সিজন? বড় ঘোষণা
আলোচনায় 'পঞ্চায়েত সিজন ৫', কবে মুক্তি পাচ্ছে নতুন সিজন? বড় ঘোষণা

ভিডিও

Kolkata News: 'পুরস্কার’ পেলেন আনন্দমেলার সম্পাদক সায়ম বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চিকিৎসক অভিজিৎ তরফদার
IPL 2026 Exclusive।ছক্কার ঝড় তুলে ৩ কোটি টাকায় আইপিএলে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে KKR-এর নতুন চমক
PC Chandra Group | রাজ্য়ের কলেজ গুলির লাইব্রেরির মানোন্নয়ন ঘটাতে উদ্য়োগ পি সি চন্দ্র গ্রুপের
Subhasish Mukhopadhyay: দেব আলাদা, কিন্তু টলিউড থেকে যাঁরা রাজনীতিতে যাচ্ছেন, তাঁরা ক'টা গ্রাম দেখেছেন? সোজাসাপ্টা শুভাশিস
GhantaKhanek Sange Suman(১৯.০৩.২৬)পর্ব ২ :

ফটো গ্যালারি

ABP Premium

ব্যক্তিগত কর্নার

সেরা প্রতিবেদন
সেরা রিল
Donald Trump On NATO : ইরানের বিরুদ্ধে পাশে নেই ! ন্যাটো আসলে 'কাগুজে বাঘ', মিত্র দেশগুলিকে 'কাপুরুষ' বললেন ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে পাশে নেই ! ন্যাটো আসলে 'কাগুজে বাঘ', মিত্র দেশগুলিকে 'কাপুরুষ' বললেন ট্রাম্প
Income-Tax Rules, 2026 : চিকিৎসার জন্য লোন, কর্পোরেট গিফট কুপনে সুবিধা, ১ এপ্রিল থেকে আয়কর নিয়মে অনেক পরিবর্তন
চিকিৎসার জন্য লোন, কর্পোরেট গিফট কুপনে সুবিধা, ১ এপ্রিল থেকে আয়কর নিয়মে অনেক পরিবর্তন
Jio, Airtel, Vi : প্রি-পেইড থেকে পোস্ট পেইডে যেতে চান ? কে দিচ্ছে সবথেকে সস্তা প্ল্যান ?
প্রি-পেইড থেকে পোস্ট পেইডে যেতে চান ? কে দিচ্ছে সবথেকে সস্তা প্ল্যান ?
Digital Door Lock : স্মার্ট লক কি বিপদ ডেকে আনছে ? ডিজিটাল ডোর লক ব্যবহারের আগে এই জরুরি বিষয়গুলি জানুন
স্মার্ট লক কি বিপদ ডেকে আনছে ? ডিজিটাল ডোর লক ব্যবহারের আগে এই জরুরি বিষয়গুলি জানুন
SBI Income Tax Update: স্টেট ব্যাঙ্ককে ৬,৩৩৭ কোটি টাকার ট্যাক্স নোটিস, আয়কর বিভাগের বড় সিদ্ধান্ত, সোমবার পড়বে স্টক ? 
স্টেট ব্যাঙ্ককে ৬,৩৩৭ কোটি টাকার ট্যাক্স নোটিস, আয়কর বিভাগের বড় সিদ্ধান্ত, সোমবার পড়বে স্টক ? 
HDFC Bank : ৩ দিনে ৯,৫০০ কোটি লস HDFC ব্যাঙ্কের শেয়ারে, খুচরো বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত ! 
৩ দিনে ৯,৫০০ কোটি লস HDFC ব্যাঙ্কের শেয়ারে, খুচরো বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত ! 
Stock Market Today : ৩০০ পয়েন্ট বাড়লেও ভয় বাড়ছে বাজারে, আগামী সপ্তাহে বড় ধস ? কী করবেন ? 
৩০০ পয়েন্ট বাড়লেও ভয় বাড়ছে বাজারে, আগামী সপ্তাহে বড় ধস ? কী করবেন ? 
SIP Investment Process : বাজারে সংকট এলেই বন্ধ করে দেওয়া উচিত SIP ? দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
বাজারে সংকট এলেই বন্ধ করে দেওয়া উচিত SIP ? দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
Embed widget