Mahua Moitra: 'রঘু ডাকাত', সুর চড়ালেন মহুয়া মৈত্র; নিশানায় কে ?
Manik Bhattacharya : নিয়োগ দুর্নীতির মামলায়, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় ২৩ মাস তিনি জেলে বন্দি ছিলেন।

কৃষ্ণনগর : দুর্নীতি নিয়ে দলীয় বিধায়ককেই নিশানা তৃণমূল সাংসদের ? সদ্য জেলমুক্ত পলাশিপাড়ার বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে নিশানা করলেন মহুয়া মৈত্র ? 'রঘু ডাকাত' বলে কটাক্ষ তৃণমূল সাংসদের। তৃণমূলের কর্মিসভায় সুর চড়ালেন মহুয়া। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও মানিক ভট্টাচার্যর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফোন ও মেসেজ করলেও তিনি কোনও মতামত জানাননি।
দলীয় কর্মিসভায় মহুয়াকে বলতে শোনা যায়, "দল কালিমালিপ্ত হয়েছে। তাঁরা ভোটের আগে এলাকায় ঢুকবেন, মিটিং করবেন, আমাদের মেনে নিতে হবে ? আমি এগুলো বলি না, কোনও দিন বলি না। আজ বাধ্য হয়ে বলছি। যাঁরা দলকে কালিমালিপ্ত করেছেন, ডাকাত...এঁরা রঘু ডাকাত। ছিঁচকে চোর নয়, পকেট মার নয়। তিনি চোর, তাঁর বউ চোর, তাঁর ছেলে চোর। চোদ্দ গুষ্টি চোর ! "
এপ্রসঙ্গে কৃষ্ণনগর দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, "মহুয়া লোকসভার সদস্য হয়েছেন। নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে এই বার্তা দেওয়া উচিত হচ্ছে না। মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। মানিক ভট্টাচার্য ওখানে নির্বাচিত সদস্য। সেখান থেকে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাঁর সম্বন্ধে দুটো কথা বলা মানে সেখানকার মানুষকে বিভ্রান্ত করা। "
এনিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "যদি মানিক ভট্টাচার্য ছিঁচকে চোর নয়, তৃণমূল সাংসদের ভাষায় রঘু ডাকাত হন, তাহলে মহাডাকাতগুলি কোথায় আছে একবার বুঝুন। তৃণমূলের এক সাংসদ এভাবেই তো ২৫-৭৫ এর ভাগের কথাটা বলে দিয়েছিলেন। যে ২৫ রাখো, ৭৫ পাঠাও। থ্যাঙ্ক ইউ, মহুয়াদি, আপনি অন্তত মানিককে রঘু ডাকাত বলে, রঘু ডাকাতের বাবা যারা, মহাডাকাত, তাঁদের দিকেও ইঙ্গিত করে দিয়েছেন।"
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতির মামলায়, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় ২৩ মাস তিনি জেলে বন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। জামিন পেলেও এলাকা ছাড়তে পারবেন না পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল পর্ষদের তৎকালীন সভাপতিকে। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে এবার জামিন পেয়েছিলেন মানিক ভট্টাচার্যের ছেলে সৌভিক ভট্টাচার্য। সৌভিক ভট্টাচার্যের জামিন মঞ্জুর করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। ইডির হাতে গ্রেফতারির পর, প্রায় ১ বছর জেলবন্দি ছিলেন মানিক পুত্র সৌভিক। পদ্ধতিগত ত্রুটি দেখিয়ে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিল সর্বোচ্চ আদালত। তলবের নির্দেশনামা ছাড়াই কীভাবে তাঁকে তলব করল ইডি, এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। এর পরই তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়।
ট্রেন্ডিং
সেরা শিরোনাম
